×

অপরাধ

জননিরাপত্তা বিষয়ক সংবাদ সম্মেলন

খাগড়াছড়িতে পাঁচ মাসে ৪৭ অপহরণ, ১৬ হত্যাকাণ্ড

Icon

শংকর চৌধুরী, খাগড়াছড়ি

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম

খাগড়াছড়িতে পাঁচ মাসে ৪৭ অপহরণ, ১৬ হত্যাকাণ্ড

ছবি: ভোরের কাগজ

খাগড়াছড়িতে ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা’ বিষয়ক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেলা ১১ টায় খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাব হলরুমে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) খাগড়াছড়ি জেলা শাখার উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি, অপহরণ, চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, জননিরাপত্তা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগঠনের বিভিন্ন দাবি ও সুপারিশ তুলে  ধরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আবদুল মজিদ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের একটি ভৌগোলিক ও সামাজিকভাবে সংবেদনশীল অঞ্চল। যেখানে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বহুভাষিক ও বৈচিত্র্যময় মানুষ যুগ যুগ ধরে বাস করছে। সাম্প্রতিক সময়ে এখানকার জননিরাপত্তা, সাধারণ মানুষের জীবিকা এবং মানবাধিকার চরম হুমকির মুখে পড়েছে। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একপাক্ষিক ও আংশিক তথ্য প্রচার করে প্রকৃত নিরাপত্তাহীনতার চিত্র আড়াল করার চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতিতে পার্বত্য অঞ্চলের ভুক্তভোগী মানুষের অভিজ্ঞতা, বস্তুনিষ্ঠ উপাত্ত এবং সঠিক বাস্তবতাকে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতেই আমাদের এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: স্ত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় ছুরিকাঘাতে স্বামীকে হত্যা

২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যে দেখা যায়, এই সময়ে প্রায় ২৪০টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৪৭টি অপহরণ এবং ১৬টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। অপহরণের শিকার হচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, সাধারণ শ্রমিক, চালক, কৃষক, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ গ্রামবাসী পর্যন্ত। এ ছাড়া জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে ৮টিরও বেশি ঘটনা ঘটেছে।

আমাদের অনুসন্ধানের উঠে এসেছে জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস), ইউপিডিএফ (প্রসীত), কেএনএফ নামক পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র ৭০ জনেরও বেশি অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু ও তরুনকে জোরপূর্বক সশস্ত্র সংঘাত বা দলীয় কাজে যুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে ১৪ জন নারী অপহরণ, প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। যা নারী ও শিশুর সুরক্ষা ও নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে।

পার্বত্য অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রধান আর্থিক উৎসে পরিণত হয়েছে অবৈধ চাঁদাবাজি ও মুক্তিপণ আদায়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধুমাত্র গত এক বছরে প্রায় ১ হাজার ৫২০টি চাঁদাবাজির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। খাতভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি- জনপ্রতি প্রায় ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। প্রতিটি ওষুধ কোম্পানির ক্ষেত্রে এই অংক ২ থেকে ৫ লাখ টাকা এবং পরিবেশক কোম্পানিগুলোর কাছে ১ থেকে ১.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। এমনকি স্থানীয় জিপ, পরিবহন বা যানবাহনের ক্ষেত্রে যানভেদে প্রতি গাড়ি থেকে ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো লক্ষ্য করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। 

গত ৩১ মার্চ রাঙ্গামাটি শহরের আসামবস্তি এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উন্নয়নকাজে নিয়োজিত ৫ জন শ্রমিককে মারধর করে ৬০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং সাথে থাকা সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ৩ এপ্রিল বান্দরবান সদরে একটি ট্রাক আটকে ৫ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। ৮ এপ্রিল বান্দরবানের রেনিখ্যং বাগানপাড়া এলাকায় আম ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি করার সময় স্থানীয়রা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা প্রতিরোধ করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের থেকে ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ টাকা বা তারও বেশি পর্যন্ত অর্থ চাদাবাজি ও মুক্তিরপণ হিসেবে আদায় করছে আঞ্চলিক উপজাতি সন্ত্রাসী বাহিনীগুলো।

২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভূমি দখল ও দখলচেষ্টার ৪টি অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। ২৭-৩০ মে ২০২৬ খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার মলঙ্গীপাড়া এলাকায় একজন বাগান মালিকের প্রায় ২০ একর পাহাড়ি জায়গা জবরদখল করে রাতারাতি ঘর নির্মাণ করে ইউপিডিএফ (প্রসীগ্রুপ)। ২৩ মার্চ ২০২৬ বান্দরবানের লামা উপজেলার মিরিঞ্জা এলাকায় 'জঙ্গল বিলাস' নামক রিসোর্ট দখলের উদ্দেশ্যে দলবল নিয়ে হামলা করে জেএসএস (সন্তু গ্রুপ) সদস্যরা। এ সময় রিসোর্টের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। বৈধকাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও জায়গাটি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এক পর্যায়ে অনিক ত্রিপুরা ৩ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে তথ্য পাওয়া যায়।

সুতরাং আমরা মনে করি, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, আস্থা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা তখনই সম্ভব হবে, যখন সকল নাগরিকের জীবন, মর্যাদা, নিরাপত্তা, সমঅধিকার, উন্নয়নের সুযোগ এবং আইনের সমান সুরক্ষা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা হবে।

পরিশেষে, আমরা প্রত্যাশা করি, পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়ি ও বাঙালি সকলের মাঝে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সমঅধিকারের ভিত্তিতে সম্প্রীতি বিরাজ করবে। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সকলেই হৃদয়ে ধারণ করবে ‘লাল-সবুজের পতাকা।’

সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) খাগড়াছড়ির আহ্বায়ক সদস্য শাহাদাৎ হোসেন, এরশাদ হোসেন, রবিউল হোসেন (মাটিরাঙ্গা), পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব পরিষদের জেলা সভাপতি জালাল আহমেদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, সংগঠনটির সাবেক সভাপতি সুমন আহমেদ, সোহেল রানা, মাকসুদুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সচিব পদে পদোন্নতি পেলেন ২ কর্মকর্তা

সচিব পদে পদোন্নতি পেলেন ২ কর্মকর্তা

সড়কে টাকা তোলার সময় হাতির ধাক্কা, অটোরিকশা উল্টে শিশুর মৃত্যু

সড়কে টাকা তোলার সময় হাতির ধাক্কা, অটোরিকশা উল্টে শিশুর মৃত্যু

হাম উপসর্গে প্রাণ গেল ৩ শিশুর, মৃত্যু বেড়ে ৮২৮

হাম উপসর্গে প্রাণ গেল ৩ শিশুর, মৃত্যু বেড়ে ৮২৮

পান-সুপারির মালা দিয়ে প্রতিমন্ত্রীকে বরণ করলো ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা

পান-সুপারির মালা দিয়ে প্রতিমন্ত্রীকে বরণ করলো ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App