ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে আহত নারীর মৃত্যু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাস থেকে নেমে রিকশায় চড়ে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন সোহেলি ইসলাম (৪২)। এ সময় পাশ দিয়ে একটি মোটরসাইকেলে মাথায় হেলমেট পরা দুই ছিনতাইকারী যাচ্ছিল। মোটরসাইকেলের পেছনে বসা ব্যক্তি আচমকা সোহেলির হাতে প্যাঁচানো ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে টানাহেঁচড়া শুরু করেন। একপর্যায়ে চলন্ত রিকশা থেকে পড়ে যান সোহেলি। এতে তাঁর ডান হাত ভেঙে যায় এবং মাথার পেছনে গুরুতর আঘাত লাগে। কান দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হলে স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেন তাঁর মেয়ে।
গত রোববার সকাল সোয়া ছয়টার দিকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে। চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
সোহেলির বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার সাহেবপাড়া এলাকায়। তিনি এসকেএফ ওষুধ কোম্পানিতে মেডিকেল সার্ভিস অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঢাকার ধানমন্ডির গ্রিন রোড-সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
বৃহস্পতিবার সকালে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে বিকেলে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পশ্চিম টেংরী এলাকায় তাঁর নানাবাড়িতে দাফন সম্পন্ন করা হয়। সোহেলির মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তাঁর একমাত্র মেয়ে সুমাইয়া আলম। তিনি বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী।
সোহেলির মামা সারওয়ার পারভেজ বলেন, কয়েক দিন আগে পার্বতীপুরে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মেয়েকে নিয়ে গিয়েছিলেন সোহেলি। অনুষ্ঠান শেষে গত শনিবার (৭ জুন) রাত ৯টার বাসে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। রোববার ভোর ৫টার দিকে গাবতলীতে নেমে কাউন্টারে অপেক্ষা করছিলেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর রিকশায় করে বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গেট অতিক্রম করার পর ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হন।
সারওয়ার পারভেজ আরও বলেন, প্রায় দেড় দশক আগে সোহেলির বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকেই তাঁর সংগ্রামী জীবনের শুরু। বছর দুয়েক আগে তাঁর বাবা মারা যান। এর দুই মাস পর মারা যান তাঁর মা। একমাত্র মেয়েকে একা রেখে এবার তিনিও চলে গেলেন।
