মানহানির মামলা
‘সিরাজগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন আমির হামজা’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে ‘কটূক্তির’ অভিযোগে হওয়া মানহানির মামলায় তিনি এই জামিন পান।
রোববার (১৪ জুন) দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন শুনানি শেষে বিচারক সুমন কর্মকার আলাদা আদেশে তার জামিন মঞ্জুর করেন। আদালত পুলিশের ওসি রওশন ইয়াজদানী এ তথ্য জানান।
এদিন সকালে আমির হামজার আগমন ঘিরে আদালতে প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন এবং জনসাধারণের চলাচল শিথিল করা হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে আদালত এলাকায় প্রবেশ করেন আমির হামজা। জামিন শেষে বেলা ৩টার দিকে আদালত ত্যাগ করেন তিনি।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আবু তালেব বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে ‘কটূক্তির’ অভিযোগে দায়ের করা মানহানির মামলায় আমির হামজা হাই কোর্টের জামিনে ছিলেন। স্থায়ী জামিনের জন্য চৌহালী আমলি আদালতে হাজির হন তিনি। বিচারক শুনানি শেষে তাকে স্থায়ী জামিন দিয়েছেন।
তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর নামে ‘কটূক্তি’ করায় প্রায় একই সময়ে আমির হামজা সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে এ মামলায়ও তাকে স্থায়ী জামিন দেন বিচারক।
আদালত পুলিশের ওসি রওশন ইয়াজদানী বলেন, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে ‘কটূক্তির’ অভিযোগে করা মানহানির মামলায় আমির হামজাকে ১০ হাজার টাকা বন্ডে স্থায়ী জামিন দিয়েছেন বিচারক। এ মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল।
এ ছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে ‘কটূক্তি’ করায় হওয়া মামলায় আমির হামজাকে ১০ হাজার টাকা বন্ডে স্থায়ী জামিন দিয়েছেন বিচারক। এই মামলায়ও তার বিরুদ্ধে সমন জারি ছিল।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী টুকুকে ‘নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী’ বলে মন্তব্য করার অভিযোগে সিরাজগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবির কর্নেল বাদী হয়ে ২ এপ্রিল আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। একই দিন আদালত সমন জারি করে ২১ এপ্রিল তাকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।
নির্ধারিত তারিখে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরবর্তীতে আদালতে হাজির না হওয়ায় ১৭ মে আসামির বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয় আদালত।
এর আগে বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর নামে ‘কটূক্তি’ করায় সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শামীম খান বাদী হয়ে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি আমির হামজার বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে মানহানির মামলা করেন। ওই মামলায় আদালত আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেছিল।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী টুকুকে ‘নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী’ বলে মন্তব্য করার অভিযোগে ৩০ মার্চ সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে বিএনপি নেতা নাজমুল ইসলাম বাদী হয়ে আমির হামজার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেন।
