সিংগাইরের সড়কজুড়ে কাঁঠালের মেলা
মাসুম বাদশাহ, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ)
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি সড়কের পাশ ও বসতবাড়ির সামনে ব্যক্তিমালিকানাধীন কাঁঠালগাছে এ বছর ব্যাপক ফলন হয়েছে। গাছে গাছে ঝুলছে পাকা কাঁঠাল, আর সেই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য নজর কাড়ছে পথচারীদের। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে উপজেলার হাটবাজার, আড়ত এবং সড়কের ধারে বিক্রির পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও পাঠানো হচ্ছে এই মৌসুমি ফল।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কাঁঠাল উৎপাদনের জন্য কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা না থাকলেও সিংগাইরে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কাঁঠাল উৎপাদিত হয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত কাঁঠাল দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
সম্প্রতি বাস্তা-মানিকনগর-সাহরাইল সড়ক ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা কাঁঠালগাছে বাম্পার ফলন হয়েছে। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলে থাকা বড় বড় কাঁঠাল যেন এক নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সৃষ্টি করেছে।
জামির্ত্তা গ্রামের বাসিন্দা রেখা আক্তার জানান, বসতবাড়ির পাশে লাগানো কাঁঠালগাছগুলোতে প্রতিবছরই ভালো ফলন হয়। তিনি বলেন, “আমাদের গাছের কাঁঠাল প্রাকৃতিকভাবে সুস্বাদু। পরিবারের চাহিদা পূরণের পর প্রতিবেশী ও বাজারে বিক্রি করা হয়।” পানিশাল গ্রামের বাসিন্দা ও ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, “এই সড়কের পাশে শুধু কাঁঠাল নয়, আম, লিচু, জামসহ বিভিন্ন ফলজ গাছ রোপণ করা হয়েছে। এসব গাছ থেকে স্থানীয় মানুষ নানান ধরনের ফল পাচ্ছেন এবং অর্থনৈতিকভাবেও উপকৃত হচ্ছেন।”
পরিবেশবাদী কর্মী ইঞ্জিনিয়ার আবু সায়েম অভিযোগ করে বলেন, “উপজেলার শাখা সড়কগুলোর মতো হেমায়েতপুর-সিংগাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশেও একসময় ফলজ ও বনজ গাছের সারি ছিল। ২০১৮ সালে রাস্তা প্রশস্তকরণের সময় শত শত গাছ কেটে ফেলা হয়। ফলে সড়কের দক্ষিণ পাশ অনেকটা বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়েছে।”
আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশের মেদুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “রাস্তা প্রশস্তকরণের সময় আমার বাড়ির সামনের অসংখ্য ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলা হয়েছিল। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট করা হয়েছিল। পরে নতুন করে গাছ লাগানোর আশ্বাসে রিট প্রত্যাহার করা হয়। তবে এখনো পর্যাপ্ত বৃক্ষরোপণ হয়নি।”
এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. কিশোর আহমেদ বলেন, “উপজেলায় কাঁঠালের কোনো ঘাটতি নেই। কৃষকদের আঠাবিহীন ও উন্নত জাতের কাঁঠাল চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এ ছাড়া বসতবাড়ির আশপাশের জমিতে বিভিন্ন ফলজ গাছ রোপণের মাধ্যমে পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।”
তিনি আরও বলেন, “মানিকগঞ্জে একটি হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন করা গেলে কৃষক ও সাধারণ মানুষ সহজে এবং স্বল্প খরচে উন্নতমানের দেশীয় ফলের চারাগাছ সংগ্রহ করতে পারবেন।”
