আলফাডাঙ্গায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা
১৭ জনের নামের মামলা, পুলিশের জোর অভিযান
কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দীর্ঘদিনের পূর্বশত্রুতা ও গ্রাম্য বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে সুমন শেখ (৩০) নামে এক যুবককে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় ১৭ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) রাতে নিহতের বড় ভাই শামীম শেখ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ জোরালো অভিযান শুরু করেছে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ পূর্বপাড়া এলাকায় উকিল শেখের বাড়ির সামনে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত সুমন শেখ উপজেলার বড়ভাগ গ্রামের আলাউদ্দিন শেখের ছেলে। তিনি কাশিয়ানী এম. এ. খালেক ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার দিন মোটরসাইকেলযোগে যাওয়ার সময় আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর গতিরোধ করে। পরে সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখের ছেলে মো. হোসাইন শেখের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুমনের ওপর এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। গুরুতর আহত হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও ওই দিন রাত ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের খবরে নিহতের পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, “পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”
