প্রতিপক্ষের সংবাদ সংগ্রহ
সাংবাদিকদের মোবাইল কেড়ে ভাঙলেন শ্রমিক দল নেতা
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জের নোহার নান্দালা ফাযিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম আকন্দের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির মধ্যে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন এক সাংবাদিক। অভিযোগ উঠেছে, সাংবাদিকের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাতে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ মুছে ফেলার পর ফোনটি ভাঙচুর করা হয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা আরও কয়েকজন সাংবাদিককে হেনস্তারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে সদর উপজেলার চৌদ্দশত এলাকায় কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে নোহার নান্দালা ফাযিল মাদরাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘিরে সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় বাসিন্দা ও উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম আকন্দের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক’ দাবি করে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসী মানববন্ধন করেন। কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর একই স্থানে পাল্টা মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে অপর পক্ষ। অভিযোগ রয়েছে, ওই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী আব্দুল আলী।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাল্টা কর্মসূচি চলাকালে উপস্থিত সাংবাদিকদের তাদের বক্তব্য ভিডিও ধারণের জন্য চাপ দেওয়া হয়। সাংবাদিকরা তাৎক্ষণিকভাবে ভিডিও ধারণে সম্মতি না দিলে একপর্যায়ে তাদের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয় কেন শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনের সংবাদ সংগ্রহ করা হয়েছে। পরে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে কর্তব্যরত সাংবাদিক রায়হান জামানের হাত থেকে জোরপূর্বক মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ফোনে ধারণ করা মানববন্ধনের ভিডিও ফুটেজ মুছে ফেলার পর সেটি রাস্তায় আছড়ে ভেঙে ফেলা হয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, মো. তোফাজ্জল, আইনাল, ফাহিম, বাশারসহ কয়েকজন সাংবাদিক রায়হান জামানের ওপর চড়াও হয়ে মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। পরে ফোনের ভিডিও মুছে সেটি ভেঙে ফেলেন।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি জানতে এগিয়ে গেলে দৈনিক ভোরের কাগজের জেলা প্রতিনিধি হারিছ আহমেদ, ইত্তেফাকের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মো. শরীফুল ইসলাম, বাংলাভিশনের ভিডিও জার্নালিস্ট মো. মনির হোসাইন এবং চ্যানেল এস-এর জেলা প্রতিনিধি আশরাফুল ইসলাম রাজনকেও হেনস্তা করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে আব্দুল আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। পরে সময় হলে নিজের বক্তব্য দেবেন বলে তিনি সেখান থেকে চলে যান।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সাংবাদিক আল আমিন হোসেন বলেন, একই স্থানে দুই পক্ষের কর্মসূচি থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর উপস্থিতি ও প্রস্তুতি চোখে পড়েনি। এতে সংঘাতের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা যদি প্রকাশ্যে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জের সাংবাদিক নেতারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঞা বলেন, দুই পক্ষই আগে আমাকে জানিয়েছিল মানববন্ধন করবে না। পরে একটি পক্ষ কর্মসূচি করেছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মোবাইল ফোন ভাঙচুরের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
