শিবালয়ে বিপুল চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল ধ্বংস
সুরেশ চন্দ্র রায়, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০ পিএম
ছবি : ভোরের কাগজ
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা মৎস্য বিভাগ। অভিযানে বিপুল নিষিদ্ধ মাছ ধরার সরঞ্জাম জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার মহাদেবপুর উত্তরপাড়া ও পূর্ব সাহিলী ফসলী চকে শিবালয় উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সাথী রানী নিয়োগীর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় উপজেলা মৎস্য অফিসের অফিস সহায়ক রেজাউল করিম এবং স্থানীয় বাসিন্দারা সার্বিক সহযোগিতা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে ফসলি মাঠের জলাশয় থেকে ৭০টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি এবং বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে জব্দ করা অবৈধ মাছ ধরার সরঞ্জামগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
নিষিদ্ধ জালের ক্ষতিকর প্রভাবের কথা তুলে ধরে স্থানীয় মৎস্যচাষি লুৎফর রহমান, বিল্লাল হোসেন এবং সমাজসেবক লাহাদ খান বলেন, “চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালের কারণে দেশীয় প্রজাতির মাছ আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। মানবজাতিকে রক্ষা করতে যেমন মাদক নির্মূল প্রয়োজন, তেমনি দেশীয় মাছ সংরক্ষণে এসব নিষিদ্ধ জালের উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। যেকোনো মূল্যে এসব জাল প্রস্তুত, বিক্রয় ও ব্যবহার বন্ধ করা গেলে ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ ঐতিহ্য আবারও ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।”
তারা আরো বলেন, এ ধরনের ক্ষতিকর জালের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
শিবালয় উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সাথী রানী নিয়োগী জানান, দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এ আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রতিটি এলাকাতেই এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, “মাছ ধরার এসব অবৈধ সরঞ্জাম যারা তৈরি ও বাজারজাত করছেন, তাদের বিরুদ্ধেও অনতিবিলম্বে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
