সোনারগাঁওয়ে যুবককে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা
সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০২:৪২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় রাজু আহমেদ (৩০) নামে এক যুবককে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে পুলিশ বলছে, এটি রাজনৈতিক নাকি পারিবারিক বিরোধের জেরে সংঘটিত হয়েছে, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রোববার (২৬ জুলাই) রাত ১০টার দিকে উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরহোগলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আরো পড়ুন: জ্বালানি সংকটে বন্ধ সার কারখানা, ক্ষতি ১৩৫ কোটি টাকা
নিহত রাজু আহমেদ ওই এলাকার আয়নাল হক ও সালেহা বেগম দম্পতির ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে একটি গরুর খামার পরিচালনা করতেন। তাঁর পরিবারে স্ত্রী, দুই ছেলে, বাবা-মা ও ভাই-বোন রয়েছেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, রাজু একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও প্রায় তিন মাস আগে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহাদাত প্রধানের সঙ্গে তাঁর বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
রবিবার রাতে রাজুর ফুফাতো ভাইয়ের সঙ্গে স্থানীয় নুরুল ও জাকিরের বাকবিতন্ডা হয়। পরে বিষয়টি মারামারিতে রূপ নেয়। এসময় রাজু গিয়ে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেন। পরে নুরুল ও জাকিরের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাজুর বাড়িতে হামলা চালায়। ফুফাতো ভাইকে না পেয়ে হামলাকারীরা রাজুকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। তাঁকে রক্ষা করতে গেলে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও মারধর করা হয়।
স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন।
শম্ভুপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নিহত রাজু বিএনপির কোনো পদধারী নেতা ছিলেন না। তবে তিনি দলের একজন সমর্থক ছিলেন। বর্তমানে তিনি গবাদিপশুর খামার পরিচালনা করতেন বলে জানা গেছে। শাহাদাত হোসেনের বিষয়ে কথা বলে তিনি এড়িয়ে যান।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেন বলেন, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তিনিসহ তার বাবা নারায়ণগঞ্জে অবস্থান করছিলেন। নুরুল ও জাকিরের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। এ বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তিনি ও তার পরিবারের কোনো সদস্যের এ ঘটনার সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।
সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনাটি রাজনৈতিক বিরোধ, নাকি পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে ঘটেছে, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
