দালাল ছাড়াই যেভাবে মিলবে ড্রাইভিং লাইসেন্স!
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ডিজিটাল বাংলাদেশ ও স্মার্ট সেবা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ ও হয়রানিমুক্ত। বিআরটিএ -এর সেবা অটোমেশনের ফলে এখন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয় না। ঘরে বসেই অনলাইনে লার্নার (শিক্ষানবিশ) লাইসেন্স থেকে শুরু করে পরীক্ষার ফি প্রদান এবং স্মার্ট কার্ডের জন্য আবেদন করা সম্ভব।
আপনি যদি ঘরে বসে ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্য যা যা প্রয়োজনী:
১. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
অনলাইনে আবেদনের আগে নিচের কাগজগুলোর ছবি বা স্ক্যান কপি প্রস্তুত রাখুন:
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি): আবেদনকারীর এনআইডি কার্ডের কপি।
ছবি: পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি (জেপিইজি/পিএনজি ফরম্যাটে)।
মেডিকেল সার্টিফিকেট: রেজিস্টার্ড ডাক্তার কর্তৃক প্রদত্ত শারীরিক সুস্থতার সনদ (বিআরটিএ ফর্ম অনুযায়ী)।
শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ: ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাসের সনদপত্র।
ইউটিলিটি বিলের কপি: বর্তমান ঠিকানা প্রমাণের জন্য গ্যাস, পানি বা বিদ্যুৎ বিলের কপি (যদি এনআইডি অনুযায়ী ঠিকানা ভিন্ন হয়)।
আরো পড়ুন: অনলাইন বা অফলাইনে প্রতারণার শিকার হলে যা করবেন
২. প্রথম ধাপ: বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে (বিএসপি) অ্যাকাউন্ট খোলা:
প্রথমে বিআরটিএ-এর অফিশিয়াল সার্ভিস পোর্টাল বিএসপি পোর্টাল-এ প্রবেশ করুন।
'নিবন্ধন' অপশনে গিয়ে নাম, মোবাইল নম্বর ও এনআইডি তথ্য দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট খুলুন।
ওটিপি ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টটি সক্রিয় করুন।
৩. দ্বিতীয় ধাপ: লার্নার বা শিক্ষানবিশ লাইসেন্সের আবেদন:
অ্যাকাউন্টে লগইন করে ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স’ সেকশনে যান।
‘লার্নার বা শিক্ষানবিশ লাইসেন্সের আবেদন’ অপশনে ক্লিক করে নিজের এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ দিন।
ফরমের যাবতীয় তথ্য (ব্যক্তিগত, যোগাযোগের ঠিকানা ও শারীরিক তথ্য) নির্ভুলভাবে পূরণ করুন।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ছবি আপলোড করুন।
পরীক্ষার জন্য আপনার সুবিধাজনক তারিখ ও কেন্দ্র (বিআরটিএ সার্কেল অফিস) নির্বাচন করুন।
বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে নির্ধারিত লার্নার ফি অনলাইনে পরিশোধ করুন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: ফি জমা দেওয়ার সাথে সাথেই সিস্টেম থেকে ই-লার্নার কার্ড তৈরি হয়ে যাবে। এটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিন।
আরো পড়ুন: সকালের নাস্তায় কি খাওয়া ভালো?
৪. তৃতীয় ধাপ: পরীক্ষা গ্রহণ
লার্নার কার্ডে উল্লিখিত নির্ধারিত তারিখে লিখিত, মৌখিক এবং প্র্যাকটিক্যাল (ফিল্ড টেস্ট) পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে বিআরটিএ কর্মকর্তা অনলাইনে আপনার রেজাল্ট ‘Pass’ হিসেবে আপডেট করে দেবেন।
৫. চতুর্থ ধাপ: স্মার্ট কার্ড লাইসেন্সের আবেদন ও ফি প্রদান:
পরীক্ষা পাসের পর পুনরায় বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে (বিএসপি) লগইন করুন।
‘স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন’ অপশনে যান।
নির্ধারিত লাইসেন্স ফি (পেশাদার/অপেশাদার ক্যাটাগরি অনুযায়ী) ই-পেমেন্টের মাধ্যমে জমা দিন।
আপনার ই-পেপার ড্রাইভিং লাইসেন্স (ই-পেপার ড্রাইভিং লাইসেন্স) ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন। এটি প্রিন্ট করে সাময়িকভাবে সব জায়গায় গাড়ি চালানোর কাজে ব্যবহার করা যায়।
৬. শেষ ধাপ: পোস্ট অফিসের মাধ্যমে কার্ড গ্রহণ:
আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর বিআরটিএ আপনার বায়োমেট্রিক ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে স্মার্ট কার্ড প্রিন্ট করবে। কার্ড প্রস্তুত হয়ে গেলে কুরিয়ার বা ডাকবিভাগের (পোস্ট অফিস) মাধ্যমে সরাসরি আপনার দেওয়া বর্তমান ঠিকানায় পৌঁছে যাবে।
ই-সেবার প্রসারের ফলে ড্রাইভিং লাইসেন্স করা এখন সম্পূর্ণ দালালমুক্ত ও সহজ। শুধু সঠিক তথ্য ও কাগজপত্র সঙ্গে রেখে আপনি নিজেই কয়েক মিনিটে ঘরে বসে আবেদন সম্পন্ন করতে পারেন। সঠিক নিয়ম মেনে ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহ করুন এবং নিরাপদে সড়ক ব্যবহার করুন।
