×

ঢাকা

গাজীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ

Icon

কগজ প্রতিবেদক, গাজীপুর

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম

গাজীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ

ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরে বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে হানিওয়েল গার্মেন্টস লিমিটেড পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। বিক্ষোভকারী কয়েকশ শ্রমিকর কারখানার সামনে সড়কে অবস্থান নিয়ে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন এবং ও বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীর (আমবাগ) এলাকার ওই কারখানার সমানে সড়ক অবরোধ করে তারা বিক্ষোভ মিছিল করে। এ রিপোর্ট লেখা (বিকেল সোয়া ৩টা) পর্যন্ত শ্রমিকরা কারখানার সামনে অবস্থান করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিক্ষোভকারী শ্রমিকেরা দাবি করেন, চলতি মাসের ১০ তারিখে বেতন দেওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু মালিকপক্ষ বেতন না দিয়ে কারখানার সামনে সাধারণ ছুটির নোটিশ টানিয়ে দিয়েছে। গত ১১ মাস যাবত আমাদেরকে অনিয়মিতভাবে বেতন দিচ্ছে। আজকে মাসের ২১ তারিখ। বাড়ীওয়ালা রুম ভাড়া না দেয়ার কারণে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। আমরা গরিব মানুষ, আমাদের পেটে ভাত নাই। পেটের দায়ে চাকরি করে খাই। আমরা কি করমু? আমরা অন্য কারখানায় চাকরি নিব সেটাও বন্ধ করে দিয়েছে মালিকে।

মালিক প্রত্যেক মাসে এমন আচরন করে কেনো? আমরাও তো মানুষ, গার্মেন্টসে চাকরি করি বলে আমাদেরকে কি মানুষ বলে মনে হয় না? প্রত্যেক মাসে শিপমেন্ট যায়, তারপরও আমাদের বেতন দিতে পারে না। কিসের জন্য দিতে পারে না। আমাদের মালিক ১০-১২ টা কারখানা চালায়। এটা নিয়মিত চালালে মালিকের সমস্যা কী? এই কারখানার মধ্যে বেতন নিয়ে প্রত্যেক মাসে এতা কাহিনী করে কেনো? মালিক যদি চালাতে না পারে তাহলে গার্মেন্টস বন্ধ করে দেউক। দরকার নাই চালানির। সবাই পেটের দায়ে চাকরি করে। আমরাও পেটের দায়ে চাকরি করি, আমাদের পেটে ভাত নাই। রানিং মাসসহ দুই মাসের বেতন বকেয়া আচে। ১১ মাস ধরে প্রত্যেক মাসে অনিয়িমিতভাবে বেতন দেয়।

ছবি: সংগৃহীত

আরেক শ্রমিক বলেন, আগস্ট মাসের বেতন এখনো পাইনি। চলতি মাসের ১০ তারিখ গেলো মাসের বেতন দেওয়ার কথা ছিলো। ১০ তারিখ ডিউটি করে ছুটি দিয়ে বেতন দিব বলেছিলো। আজ ২১ তারিখ এখনো বেতন দেয়নি। শুধু এসএমএস ম্যাসেজ দেয় সাময়িক সময়ের জন্য অফিস বন্ধ। কিন্তু বেতন দেয়ার কোনো কথা বলে না। বেতন না দেয়ায় আমরা স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারতেছি না। আইনে আছে মালিক কারখানা বন্ধ রাখুক। গেলো মাসের বেতন তো দিয়ে বন্ধ করে রাখবো। বেতন না দিলে আমরা কিভাবে চলবো? অন্য কারখানায় গিয়ে চাকরি নিব সেই ফিঙ্গারটাও বন্ধ করে দিয়েছে। সরাসরি মালিকের সাথে যোগাযোগ করার কোনো মাধ্যম নাই আমাদের। আমরা গেইটের সামনে আসিছ কারো মাধ্যমে কোনো একটা সমাধান পাওয়া যায় কি না। মালিক কারখানা বন্ধ করে রাখুক। আমাদের পাওনা দিয়ে তারপর বন্ধ করে রাখুক। সাময়িক সময়ের জন্য আমরা জীবনযাপন করি। গেলো মাসের বেতনটা তো অন্তত দিতে পারে মালিক।

অপর এক শ্রমিক বলেন, এখানে আমরা, সিও, জিএম, ম্যানেজারসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তাকে পাচ্ছি না। আমাদের বেতন কে দিবে? আমাদের পেট চলবে কিভাবে? আমাদের বাসা ওয়ালা ঝগড়া লাগে ভাড়া দেয়ার জন্য। দোকান মালিকেরা বাকি বাজার দেয় না। কেউ আমাদেরকে কোনো মালামাল দিচ্ছে না। বেতন না দেওয়ার কারণে আমরা বাজার সদায় করতে পারছি না। গত দুই মাস যাবত না খেয়ে কোনোরকমে দিন পার করছি। প্রত্যেকদিন এসএমএস দেয়, আমরা কাকে জিজ্ঞাসা করবো? যার কারণে আজকে আমরা রাস্তায় নামছি। আমরা সমাধান চায়, না হলে আমরা রাস্তা থেকে সরে যাব না।

সুমনা আক্তার নামে এক নারী শ্রমিক বলেন, প্রতি মাসে মালিক আমাদের বেতন নিয়া তালবাহানা করে। আমরা রুম ভাড়া, দোকান বাকী ও ছেলে  মেয়ের স্কুলের বেতন দিতে পারছি না। বাড়ীওয়ালা আমাদের রুম থেকে বের করে দিতে চায়। মালিকের অন্য কারখানায় বেতন ঠিক মতো দিচ্ছে আমাদের বেলায় এতো সমস্যা কেন?

প্রায় পাঁচশত  শ্রমিক কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে তাদের বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধ করার দাবি জানান। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও বেতন পরিশোধ না করায় তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেক শ্রমিক পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিক্ষোভকারী শ্রমিকেরা বেতন পরিশোধের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সমস্যা সমাধানে দ্রুত কারখানা কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে বকেয়া দুই মাসের বেতন পরিশোধ করা না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শিল্প পুলিশ ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমিপর) কোনাবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের এসব অভিযোগের বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের কারো সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমিপর) কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেন জানান, মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। শ্রমিকদের দাবি পূরণে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, গত দুই মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা ফিডার রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। মালিকের পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারখানার সামনে শিল্প পুলিশের পাশাপাশি জিএমপি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

একাদশে ভর্তিতে দ্বিতীয় ধাপে আবেদনের তারিখ ঘোষণা

একাদশে ভর্তিতে দ্বিতীয় ধাপে আবেদনের তারিখ ঘোষণা

অপ্রতিম হত্যা: যে নতুন তথ্য পাওয়া গেল ৪ সিসিটিভি ক্যামেরায়

অপ্রতিম হত্যা: যে নতুন তথ্য পাওয়া গেল ৪ সিসিটিভি ক্যামেরায়

সিলেটে হামের চাপ কমেনি, ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল আরও দুই শিশুর

সিলেটে হামের চাপ কমেনি, ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল আরও দুই শিশুর

বিএনপি নেতা ফারুক হত্যার দায়ে ৩ জনের ফাঁসি

বিএনপি নেতা ফারুক হত্যার দায়ে ৩ জনের ফাঁসি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App