১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ, ঠিকাদারের সাথে যা হলো
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাবে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।
একই সঙ্গে কাজের সঙ্গে জড়িত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হয়েছে। আগামী এক দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জানা যায়, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০.৬ মিটার দৈর্ঘ্য পিএসসি গার্ডার সেতু নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেবি) নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সেতুটির কাজ শুরু হয় ২০২২ সালে সেপ্টেম্বর মাসে।
আরও পড়ুন: সচিবের ভাই পরিচয়ে ইউএনওর কাছে লাখ টাকা দাবি, অতঃপর
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলে পরবর্তীতে আবারও মেয়াদ বাড়ানো হয়। সেতুর ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও ২০ শতাংশ কাজ বাকি আছে। গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন ফুটপাত স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ শুরু করে। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে তারা বাধা দেয়। এক পর্যায়ে কাজটি বন্ধ করা হয়।

এ সময় স্থানীয়রা মোবাইলে কাজের ভিডিও ধারণ করে। স্থানীয়রা চলে যাওয়ার পর রাতের মধ্যেই তারা কাজটি শেষ করে। স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে কর্তৃপক্ষ পরিদর্শনে আসে। বিষিয়টি নিয়ে বিভিন্ন টেলিভিশন, প্রিন্ট মিডিয়া ও অনলাইনে সংবাদ প্রচার হওয়ায় কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে।
এদিকে এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) মো. আহাদি হোসেনকে আহ্বায়ক ও বাসাইল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আলম এবং উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেনকে সদস্য করা হয়েছে।
কমিটিকে আগামী এক দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়াও উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানো নোটিশসহ রেকটিফিকেশন করণ ও গাফিলতির জন্য কৈফিয়ৎ তলব করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, ‘যেসব জায়গায় নিম্নমানের কাজ হয়েছে, সেগুলো ভেঙে ফেলা হচ্ছে। দ্রুতই কাজগুলো আবার করা হবে। এ ঘটনায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানো নোটিশসহ রেকটিফিকেশন করণ ও গাফিলতির জন্য কৈফিয়ৎ তলব করা হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী একদিনের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।’
