মালয়েশিয়া থেকে ফিরেছিলেন ঋণের বোঝা নিয়ে, পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যা
কামরুল সিকদার, বোয়ালমারী (ফরিদপুর)
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বিদেশে ভাগ্য ফেরাতে ঋণ করে মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন গোবিন্দ বিশ্বাস (২৮)। কিন্তু কাজের অনুমতি হারিয়ে প্রায় দেড় বছর পর শূন্য হাতে দেশে ফিরতে হয় তাকে। দেশে ফিরে সেলুনে কাজ শুরু করলেও বিদেশ যাওয়ার জন্য নেওয়া ঋণের বোঝা আর নামাতে পারেননি। এ নিয়ে পারিবারিক অশান্তিও চলছিল। সব মিলিয়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ ও পারিবারিক কলহে বিষপানে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন গোবিন্দ।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এ যুবক। আত্মহননকারী যুবক গোবিন্দ বিশ্বাস ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসভার দক্ষিণ কামারগ্রাম ঋষিপাড়ার বাসিন্দা পরিমল বিশ্বাসের একমাত্র ছেলে। তার চার বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে দালালের মাধ্যমে ঋণ করে মালয়েশিয়া যান গোবিন্দ। সেখানে কিছুদিন কাজ করার পর তার কাজের অনুমতিপত্রের (ওয়ার্ক পারমিট) মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। পরে প্রায় দেড় বছর অবস্থানের পর মালয়েশিয়া পুলিশের হাতে আটক হয়ে শূন্য হাতে দেশে ফিরেন তিনি। দেশে ফিরে একটি সেলুনে কাজ নিয়ে সংসার চালানোর চেষ্টা করেন গোবিন্দ। কিন্তু বিদেশ যাওয়ার জন্য বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে নেওয়া ঋণ তার জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।
জানা গেছে, বেসরকারি সংস্থা এসডিসি নামের একটি এনজিও থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ব্র্যাক থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে ঋণের পরিমাণ ছিল ছয় লাখ টাকা। সেলুনে কাজ করে যে আয় হতো, তা দিয়ে সংসারের ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি নিয়মিত সাপ্তাহিক কিস্তি পরিশোধ করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রায়ই বিরোধ ও অশান্তি হতো বলে জানা গেছে ।
এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যদের অগোচরে ঘরে থাকা কীটনাশক পান করেন গোবিন্দ। অসুস্থ হয়ে ছটফট করতে দেখে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঋণের চাপ ও পারিবারিক কলহের কারণে এক যুবকের বিষপানের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা করা হবে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গোবিন্দের মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সে ছিল বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুর পর চার বছর বয়সী মেয়ে প্রার্থনা বিশ্বাসের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন স্বজনেরা।
