এডিবির পূর্বাভাস
চলতি অর্থবছরে ধীর প্রবৃদ্ধি, থাকবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের পথে এগোতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। তবে এই পুনরুদ্ধারের গতি খুব বেশি হবে না। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রকাশিত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও)–এ সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। এটি আগের অর্থবছরের সম্ভাব্য ৩ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় বেশি হলেও, অতীতের উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারার চেয়ে অনেক কম।
এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল রপ্তানি, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, জ্বালানি সংকট এবং প্রতিকূল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে গত অর্থবছরে প্রত্যাশার তুলনায় কম প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে আসা, ব্যবসা পরিচালনায় নিয়মকানুন সহজ হওয়া, সুশাসনের উন্নতি, কর প্রশাসনে সংস্কার এবং প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, প্রবৃদ্ধির গতি দ্রুত বাড়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার ঘাটতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
আরো পড়ুন : সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি আপনার পকেটে যেভাবে চাপ বাড়াবে
হালনাগাদ প্রতিবেদনে আগামী অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ দশমিক ৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হলেও মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে। এপ্রিলে যেখানে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫ শতাংশ হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, সর্বশেষ প্রতিবেদনে তা বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ করা হয়েছে।
এডিবির মতে, জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া, বিনিময় হারজনিত চাপ এবং খাদ্য ও সেবা খাতে মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় ধীরে কমবে।
এডিবির বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আকিরা মাতসুবাগা বলেন, কঠিন বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির মধ্যেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সেবা খাতের স্থিতিশীলতা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সহায়তা করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে সংস্কার জরুরি।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরো তীব্র হলে জ্বালানির দাম ও পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে, যা মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক লেনদেনের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন শুল্ক বা বিধিনিষেধ, প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোর অর্থনৈতিক ধীরগতি, বৈদেশিক অর্থায়নের কঠোর পরিবেশ এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকিও বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকতে পারে।
