টানা বৃষ্টিতে ঊর্ধ্বমুখী সবজি-মাছের দাম
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশজুড়ে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে রাজধানীর কাঁচাবাজারে। ভারী বর্ষণ ও বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে ঢাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাজারেও দেখা দিয়েছে সরবরাহ সংকট। এর ফলে বেশির ভাগ সবজি ও মাছের দাম বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচামরিচের দাম, যা কেজিপ্রতি এক লাফে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া ডিমের দামেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেলেও মুরগির দাম আগের মতোই রয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর মালিবাগ ও রামপুরা কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। বৃষ্টির কারণে বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি ছিল কম। অনেক দোকান খোলা থাকলেও কিছু দোকান বন্ধ ছিল।
বিক্রেতারা জানান, টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় সবজি সরবরাহ কমেছে। এ কারণেই বাজারে সবজির দাম বেড়েছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, সরবরাহ কমার কথা বলা হলেও বাজারে সবজির তেমন কোনো সংকট নেই, তারপরও বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে।
আরো পড়ুন : রাজধানীর বাজারে বেড়েছে ডিমের দাম, চড়া মাছ
বাজারে করলা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১২০ টাকা, কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা এবং হাইব্রিড ধুন্দল ৬০ টাকা কেজি দরে। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ টাকা এবং লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। কাঁচামরিচের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় পৌঁছেছে, যা আগে ছিল প্রায় ৪০ টাকা। এ ছাড়া পেঁপে ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা ১০০ টাকা, হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা, আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এক হালি লেবুর দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা। দেশি ধনেপাতা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৫০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ১৮০ টাকায়। কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকা, চাল কুমড়া প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা। লাল শাক প্রতি আঁটি ১৫ থেকে ২০ টাকা, লাউ শাক ও পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং দুই আঁটি ডাটা শাক ও কলমি শাক যথাক্রমে ৩০ ও ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির বাজারে দামে তেমন পরিবর্তন নেই। সোনালি কক মুরগি প্রতি কেজি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ৩০০ টাকা, ব্রয়লার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও ক্রেতাদের স্বস্তি নেই। বিক্রেতাদের দাবি, বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব ধরনের মাছের দাম কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বড় তেলাপিয়া ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, ছোট তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২০ টাকা, রুই ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাঙাশ ২০০ টাকা এবং কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া টেংরা ও শিং মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, পোয়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং চিংড়ি আকারভেদে ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম কেজিপ্রতি ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়।
গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাজারে আসা বুলবুল নামে এক ক্রেতা বলেন, বাসায় মাছ-মুরগি না থাকায় বাধ্য হয়ে বাজারে এসেছেন। গত সপ্তাহে ১৭০ টাকা কেজিতে ব্রয়লার মুরগি কিনলেও এবার ১৯০ টাকা দিতে হয়েছে। একই সঙ্গে মাছের দামও কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে বলে জানান তিনি।
মাছ বিক্রেতা মোহাম্মদ আলী বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে বাজারে মাছের সরবরাহ কমেছে। ফলে গত সপ্তাহের তুলনায় বিভিন্ন ধরনের মাছ কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
