ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক লেনদেন সহজে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৯:০২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশের ফ্রিল্যান্সার ও ব্যক্তি পর্যায়ের সেবা রপ্তানিকারকদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের নিয়ম আরো সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দ্রুত সম্প্রসারিত ডিজিটাল সেবা খাতের চাহিদা বিবেচনায় এনে নতুন এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যাতে বিদেশ থেকে আয় দেশে আনা এবং তা ব্যবস্থাপনা করা আগের তুলনায় সহজ হয়।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ফ্রিল্যান্সাররা এখন প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্ট, ই-মেইল, অনলাইন যোগাযোগের রেকর্ডসহ বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক প্রমাণপত্রের ভিত্তিতে বৈদেশিক আয় গ্রহণ করতে পারবেন। ফলে প্রচলিত রপ্তানি-সংক্রান্ত কাগজপত্রের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ডিজিটাল সেবাভিত্তিক ব্যবসার বাস্তবতার সঙ্গে প্রক্রিয়াটি আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
ক্ষুদ্র পরিসরের লেনদেনকে সহজ করতে ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত সেবা রপ্তানির আয় দেশে আনতে আর আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্রের প্রয়োজন হবে না। পাশাপাশি অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডার (ওপিজিএসপি) ব্যবহার করে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ গ্রহণ করা যাবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব অর্থ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।
নির্দেশনায় ডুয়েল কারেন্সি ‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’ চালুর সুযোগও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার (এমএফএসপি) এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি)-এর ব্যবহার আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। এর ফলে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাপনা আরও সহজ ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সাররা তাঁদের রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রায় সংরক্ষণ করতে পারবেন। এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) সুবিধার আওতায় রাখা এই অর্থ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক সফটওয়্যার সাবস্ক্রিপশন, ক্লাউড সেবা, ডিজিটাল বিজ্ঞাপনসহ অন্যান্য বৈদেশিক ব্যয় নির্বাহ করা যাবে। অন্যদিকে তথ্যপ্রযুক্তি ছাড়া অন্যান্য সেবা রপ্তানিকারকদের জন্য এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে আরো বেশি ফ্রিল্যান্সার ও সেবা রপ্তানিকারক আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বৈদেশিক আয় দেশে আনতে উৎসাহিত হবেন। এতে যেমন বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়বে, তেমনি সেবা রপ্তানি থেকে অর্জিত আয়ের সঠিক পরিসংখ্যান সংরক্ষণও সহজ হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবা খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পরিমাণ বাড়লেও জটিল নথিপত্র, অর্থ দেশে আনার প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক ফ্রিল্যান্সার আনুষ্ঠানিক চ্যানেল ব্যবহার করতে আগ্রহী ছিলেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে এসব প্রতিবন্ধকতা কমিয়ে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈদেশিক আয় আনতে উৎসাহ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
