আয়কর রিটার্নে যেসব ভুল এড়ানো জরুরি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
নতুন আয়কর রিটার্ন জমার মৌসুম শুরু হয়েছে। এখন থেকে সারা বছরই অনলাইনের মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা যাবে। তবে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত করা কিছু সাধারণ ভুল ভবিষ্যতে করদাতাদের জন্য জটিলতার কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে এক কোটির বেশি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) রয়েছেন। গত বছর প্রায় ৪৭ লাখ করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন।
অনেকের ধারণা, একবার রিটার্ন জমা দিলেই কর কর্মকর্তারা আর তা যাচাই বা নিরীক্ষা করবেন না। তবে বাস্তবে যেকোনো করদাতার রিটার্ন নিরীক্ষার আওতায় আসতে পারে। তাই আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়-দেনার সব তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কর কর্মকর্তা, কর আইনজীবী ও কর বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিবছর রিটার্ন জমার সময় কিছু ভুল প্রায়ই দেখা যায়। এর মধ্যে অন্যতম হলো স্থাবর সম্পত্তির সঠিক তথ্য না দেওয়া। অনেকেই ফ্ল্যাট, জমি বা অন্যান্য সম্পদের পূর্ণ বিবরণ উল্লেখ করেন না, ফলে সম্পদের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয় না।
এ ছাড়া কর রেয়াত পাওয়ার জন্য বিনিয়োগের হিসাব ভুলভাবে দেখানো, মোট আয়ের তুলনায় অস্বাভাবিক ব্যয় উল্লেখ করা কিংবা আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ পরিমাণ নগদ অর্থ দেখানোও সাধারণ ভুলের মধ্যে পড়ে।
আরো পড়ুন : বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন
অনেক করদাতা স্বর্ণালংকারের পরিমাণ অতিরঞ্জিতভাবে উল্লেখ করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন সম্পদের তথ্য অবশ্যই বাস্তবসম্মত হওয়া উচিত এবং তা ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
এ ছাড়া ঋণ নেওয়া বা দেওয়া, উপহার, অনুদান, এফডিআর, ডিপিএস, সঞ্চয়পত্রসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয় ও বিনিয়োগের তথ্য বাদ দেওয়া কিংবা আগের বছরের নিট সম্পদের হিসাব ভুলভাবে উপস্থাপন করাও ভবিষ্যতে প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। উৎসে কর্তিত করের তথ্য ভুলভাবে উল্লেখ করা বা প্রকৃত পরিমাণের চেয়ে বেশি কর সমন্বয়ের দাবি করলেও কর নির্ধারণে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে আয়, ব্যয়, সম্পদ, দায়-দেনা এবং কর পরিশোধসংক্রান্ত সব তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। একটি সঠিক, পূর্ণাঙ্গ ও আইনসম্মত রিটার্ন ভবিষ্যতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়াতে সহায়ক হবে।
