মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল থেকে ফের গ্যাস সরবরাহ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
তিন দিন বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে ফের জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর থেকে সরবরাহ শুরু হওয়ার পর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ ১০৬ মিলিয়ন ঘনফুট বেড়েছে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিএল) কর্মকর্তারা জানান, টার্মিনালে আগে থেকে মজুত থাকা এলএনজি ব্যবহার করেই শনিবার দুপুরের পর গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়।
এর আগে মজুত এলএনজি শেষ হয়ে যাওয়ায় গত বুধবার দুপুরের পর এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানায় এর প্রভাব পড়ে।
সরবরাহ ১০৬ মিলিয়ন ঘনফুট বেড়েছে
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ১২টায় দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৫৮১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছিল। সন্ধ্যা ৬টায় তা বেড়ে ৬৮৭ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়ায়। অর্থাৎ ছয় ঘণ্টায় আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে ১০৬ মিলিয়ন ঘনফুট বা ১৮ দশমিক ২ শতাংশ।
আরও পড়ুন: জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধানের সুযোগ নেই কেন, জানালেন অর্থমন্ত্রী
এ সময়ে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ ১ হাজার ৬২১ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ১ হাজার ৬২৪ মিলিয়ন ঘনফুট হয়েছে। দেশীয় গ্যাস ও এলএনজি মিলিয়ে মোট সরবরাহ দুপুরের ২ হাজার ২০২ মিলিয়ন থেকে বেড়ে সন্ধ্যায় ২ হাজার ৩১১ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছায়। অর্থাৎ ছয় ঘণ্টায় মোট সরবরাহ বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ।
দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সেই হিসাবে শনিবার সন্ধ্যায় চাহিদার ৬০ দশমিক ৮ শতাংশের মতো সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। ঘাটতি ছিল প্রায় ১ হাজার ৪৮৯ মিলিয়ন ঘনফুট।
দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সম্মিলিত দৈনিক সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে সন্ধ্যায় সরবরাহ ছিল সক্ষমতার প্রায় ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ।
নতুন কার্গো ভিড়লেও খালাস শুরু রাতে
শনিবার দুপুরে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনালে নতুন একটি এলএনজি কার্গো এসে পৌঁছেছে। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখান থেকে এলএনজি খালাস শুরু হয়নি। আরপিজিএলের কর্মকর্তারা জানান, রাত ১০টার দিকে খালাস শুরু হতে পারে।
এর আগেই টার্মিনালে মজুত এলএনজি ব্যবহার করে দুপুর ২টা থেকে দৈনিক প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু করে এক্সিলারেট। সে সময় সামিটের টার্মিনাল থেকে প্রায় ৫৭০ মিলিয়ন এবং এক্সিলারেট থেকে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছিল।
পেট্রোবাংলার হিসাবে, বিকেল ৪টায় দুই টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ ৬৮৬ মিলিয়ন এবং সন্ধ্যা ৬টায় ৬৮৭ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়ায়।
পেট্রোবাংলার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আগের কারিগরি সমস্যার কারণে এক্সিলারেট থেকে একবারে পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে না। পর্যায়ক্রমে সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে।
আগুনের পর বারবার কমেছে-বেড়েছে সরবরাহ
গত ২১ জুলাই আগুনে এক্সিলারেটের টার্মিনালের বৈদ্যুতিক কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখান থেকে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দুই সপ্তাহের বেশি সময় পর ৬ আগস্ট টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালু করা হয়।
এরপর কারিগরি সমস্যা ও এলএনজি কার্গোর সংকটে টার্মিনালটির গ্যাস সরবরাহ কয়েক দফা ওঠানামা করে। সর্বশেষ গত বুধবার দুপুরের পর মজুত এলএনজি শেষ হয়ে যাওয়ায় আবারও সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
শনিবার নতুন করে সরবরাহ শুরু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের প্রবাহ কিছুটা বেড়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় ঘাটতি এখনও বড় রয়ে গেছে।
