যুক্তরাজ্যে বেড়েছে পোশাক রপ্তানি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতে জুলাইয়ে কিছুটা কমলেও পরের মাস আগস্টে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই ও আগস্টে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ থেকে মোট ৯১ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৮৮ কোটি ২৬ লাখ ২০ হাজার ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি বেড়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ ১০ হাজার ডলার।
এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৪৩৮ কোটি ৮৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই আগের অর্থবছরের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ২০ দশমিক ৮৬ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাজ্যে পোশাক রপ্তানি থেকে বাংলাদেশের গড় মাসিক আয় হয়েছে ৪৫ কোটি ৭৮ লাখ ২০ হাজার ডলার। অন্যদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটিতে পোশাক রপ্তানি থেকে মোট আয়ের ভিত্তিতে মাসিক গড় ছিল প্রায় ৩৬ কোটি ৫৭ লাখ ১০ হাজার ডলার। অর্থাৎ আগের অর্থবছরের মাসিক গড়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের গড় রপ্তানি আয় বেশি।
তবে এই প্রবৃদ্ধির পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে আগস্টের রপ্তানি। জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমেছিল। পরের মাস আগস্টে রপ্তানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ফলে জুলাইয়ের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি পুষিয়ে প্রথম দুই মাসের সম্মিলিত হিসাবে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি এসেছে।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যে ৪৫ কোটি ৮ লাখ ২০ হাজার ডলারের ওভেন ও নিট পোশাক রপ্তানি হয়েছে। ২০২৫ সালের একই মাসে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪৬ কোটি ২০ লাখ ৮০ হাজার ডলার। অর্থাৎ জুলাইয়ে রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
অন্যদিকে আগস্টে রপ্তানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ কোটি ৪৮ লাখ ১০ হাজার ডলারে। আগের বছরের আগস্টে এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪২ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে আগস্টে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক এবং বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, আগস্টের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির কারণেই প্রথম দুই মাসের সম্মিলিত রপ্তানি ইতিবাচক হয়েছে। তবে অর্থবছরের মাত্র দুই মাসের তথ্যের ভিত্তিতে পুরো বছরের রপ্তানি প্রবণতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। পরবর্তী মাসগুলোতে রপ্তানি ধারাবাহিকতা বজায় থাকে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার যুক্তরাজ্য। দেশটির বাজারে রপ্তানি ধরে রাখার ক্ষেত্রে সামনে অর্ডারের প্রবাহ, বৈশ্বিক পোশাকের চাহিদা, ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
