এসএসসির ফল পুনর্মূল্যায়নে রেকর্ড আবেদন, ১০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের পরিকল্পনা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০২:২১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্মূল্যায়নে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডে মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি বিষয়ে পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেছেন ৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী।
শিক্ষা বোর্ডগুলো জানিয়েছে, উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের নতুন সুযোগ দেওয়ায় এবার আবেদনের সংখ্যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। আগামী ২১ আগস্ট থেকে পুনর্মূল্যায়নের কাজ শুরু হবে। ৫ থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশোধিত ফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এত বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্র অল্প সময়ে কীভাবে নির্ভুলভাবে মূল্যায়ন করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এবার পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। ফল প্রকাশের পরদিন থেকেই পুনর্মূল্যায়নের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়।
আরও পড়ুন: নতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কবে, যা জানা গেল
আগের নিয়মে ফল পুনঃনিরীক্ষণের সময় মূলত নম্বর যোগে ভুল হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হতো। এবার সেই পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর মতে, এ কারণেই আবেদনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২১ আগস্ট থেকে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর ৫ থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হবে। আন্তঃশিক্ষাবোর্ডের সমন্বয়ক অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, কাজটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য পরীক্ষকের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।
তবে শিক্ষা গবেষকদের মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এত বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। তাদের মতে, দ্রুততার পাশাপাশি নির্ভুলতার বিষয়টিকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় অ্যাসেসমেন্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর পদ্ধতি নির্ধারণ করা যেতে পারে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন বলেও মত দেন তিনি।
শিক্ষকরাও উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক খাতা সঠিকভাবে মূল্যায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
আরও পড়ুন : ভোট দিতে পারবেন মির্জা ফখরুল, সংসদ কক্ষে ঢুকতে পারবেন না অলি
উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে উত্তরপত্র মূল্যায়নে কোনো ধরনের ত্রুটি হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা সম্ভব হবে। একজন পরীক্ষক যে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেছেন, তা যথাযথভাবে হয়েছে কি না- নতুন প্রক্রিয়ায় সেটি যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এবার গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে পুনর্মূল্যায়নের আবেদন সবচেয়ে বেশি পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি উত্তরপত্র মূল্যায়নে সামান্য ভুলও একজন শিক্ষার্থীর ফলাফল ও ভবিষ্যতের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শুধু ফল সংশোধন নয়, মূল্যায়নে অনিয়ম বা ভুলের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
