×

শিক্ষা

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলে বড় ধসের যেসব কারণ

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলে বড় ধসের যেসব কারণ

ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় বড় ধরনের ফল বিপর্যয় ঘটেছে। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার নেমে এসেছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন। এর মধ্যে শুধু ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়েই ফেল করেছেন ৩ লাখ ৮২ হাজার ২১ জন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী। অন্যদিকে, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে যেখানে ৬৯ হাজার ৯৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন, এবার সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জনে। অর্থাৎ, এক বছরে জিপিএ-৫ কমেছে ২৯ হাজার ১৩টি বা প্রায় ৪২ শতাংশ। একই সময়ে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।

ফল বিপর্যয়ের পেছনে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ঘাটতি, মানসিক চাপ এবং মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এবার সব বোর্ডে অভিন্ন ও মানসম্মত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া এবং খাতা মূল্যায়নে বাড়তি নম্বর না দিয়ে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করার প্রভাবও ফলাফলে পড়েছে। পাশাপাশি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি ও পড়াশোনায় মনোযোগ ব্যাহত হয়েছে।

ইংরেজি ও আইসিটিতে বেশি অকৃতকার্য

প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, ইংরেজি বিষয়ে ফেল করেছেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন শিক্ষার্থী। আর আইসিটিতে অকৃতকার্য হয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন। দুই বিষয়ে মোট অকৃতকার্যের সংখ্যা ৩ লাখ ৮২ হাজার ২১ জন।

ফেল করা শিক্ষার্থীদের আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা হওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য বেশি সময় ও পরিশ্রমের প্রয়োজন ছিল। বড় সিলেবাসের কারণে অনেক শিক্ষার্থী মানসিক চাপেও পড়েছেন। এর সঙ্গে গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে অভিন্ন ও মানসম্মত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নে কঠোরতা ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতেও কঠোর নজরদারি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়েছিল।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশকেও ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন তাঁরা। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পরপরই এসব শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। ওই সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা বিরাজ করছিল। এর প্রভাবে অনেক শিক্ষার্থী কলেজবিমুখ হয়ে পড়েন। নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি ও পড়াশোনায় মনোযোগের ক্ষেত্রেও তাঁদের মধ্যে অনীহা তৈরি হয়, যা এবারের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা বোর্ডেও পাসের হার নিম্নমুখী

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬৪ দশমিক ৬২ শতাংশ। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে এ বোর্ডে পাসের হার কমেছে ২ দশমিক ৮২ শতাংশ।

দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। একইভাবে, গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাস চট্টগ্রাম বোর্ডে

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে গত ১৫ বছরের মধ্যে এবার সর্বনিম্ন পাসের হার রেকর্ড করা হয়েছে। এ বছর বোর্ডটিতে পাসের হার ৫২ দশমিক ৭ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৩ হাজার ২০১ জন।

রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৪৫ শতাংশের নিচে

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশে। করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালে অটোপাসের পর এবারই বোর্ডটিতে পাসের হার সর্বনিম্ন।

প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, বোর্ডের ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৫৬ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৬১ হাজার ৮৯৪ জন।

বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন বলেন, শিক্ষার্থীরা খাতায় যেভাবে লিখেছে, সেভাবেই নম্বর পেয়েছে। কাউকে বাড়তি নম্বর দেওয়া হয়নি। এ কারণে সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব পড়েছে।

বরিশালে ১১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেননি

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৫০ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা—দুটিই কমেছে। এ ছাড়া বোর্ডের ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি।

ফল ঘোষণা করেন বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা। তিনি বলেন, এবারের ফল যথাযথভাবে পর্যালোচনা ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধার প্রতিফলন ঘটেছে।

মানবিক বিভাগে অকৃতকার্য সবচেয়ে বেশি

১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ হলেও ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মানবিক বিভাগে পাসের হার আরও কম। এ বিভাগে পাসের হার ৪২ দশমিক ১৭ শতাংশ।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মানবিক বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩২ জন ছাত্রের মধ্যে পাস করেছেন ৯০ হাজার ৬৬৪ জন। অন্যদিকে, ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৮০৩ জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৪৭ জন।


সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ইংরেজি ভার্সনে পাসের হার ১০০, গড় পাসের হার ৯৯.৮৩ শতাংশ

এইচএসসিতে মাইলস্টোন কলেজের সাফল্য ইংরেজি ভার্সনে পাসের হার ১০০, গড় পাসের হার ৯৯.৮৩ শতাংশ

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলে বড় ধসের যেসব কারণ

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলে বড় ধসের যেসব কারণ

অবশেষে সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন বরখাস্ত

অবশেষে সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন বরখাস্ত

‘সরকারের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডকে বিভ্রান্ত করতেই অযৌক্তিকভাবে লংমার্চ’

‘সরকারের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডকে বিভ্রান্ত করতেই অযৌক্তিকভাবে লংমার্চ’

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App