‘গ্লোবাল ভ্যানগার্ড অনার’ পাচ্ছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম
ফাইল ছবি
২০০২ সালের তামিল চলচ্চিত্র ‘থামিজান’-এর মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা প্রিয়াঙ্কা চোপড়া এখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। সেদিন তিনি শুধু প্রথম নারী মুখ্য চরিত্রেই অভিনয় করেননি, পাশাপাশি একটি গানে কণ্ঠও দিয়েছিলেন। ২০০৩ সালে স্পাই থ্রিলার ‘দ্য হিরো: লাভ স্টোরি অব আ স্পাই’-এর মধ্য দিয়ে বলিউডে পা রাখেন। এরপর মিস ওয়ার্ল্ড খেতাবজয়ী এই শিল্পীকে কখনও পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।
বহুমাত্রিক চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। ‘ফ্যাশন’, ‘বর্ফি!’, ‘মেরি কম’, ‘কুয়াট্টো লোকাল’, ‘দ্য স্কাই ইজ পিংক’ প্রতিটি সিনেমায় তিনি আলাদা মাত্রা এঁকেছেন।
‘কোয়ান্টিকো’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে হলিউডে পা রাখেন, তারপর ‘সিটাডেল’ ও ‘ম্যাট্রিক্স রিসারেকশন’-এর মতো বড় প্রকল্প তাঁকে এনে দেয় বিশ্বজনপ্রিয়তা। বর্তমানে তিনি ‘হুইটলি’ নামে একটি নতুন সিরিজে অভিনয় করছেন।
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া শুধু অভিনেত্রী নন, তিনি একজন প্রযোজক, গায়িকা ও লেখক। তাঁর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘পার্পল পেবল পিকচার্স’ আঞ্চলিক ভাষার অসাধারণ সব গল্প বিশ্বদরবারে তুলে এনেছে। ‘দ্য হোয়াইট টাইগার’ এর মতো ছবি আন্তর্জাতিক অস্কার মনোনয়ন পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগেই।
এ ছাড়া তিনি ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে শিশু অধিকার ও মেয়েদের শিক্ষার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। বিনোদন ও সমাজসেবায় তাঁর অসামান্য ভূমিকা ইতোমধ্যে তাঁকে ‘পদ্মশ্রী’সহ একাধিক সম্মাননা পেয়েছেন। সময়ের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা এখন নিজেকে গড়ে তুলেছেন এক আন্তর্জাতিক আইকনে। তাঁর পর্দা উপস্থিতি যেমন শক্তিশালী, তেমনি অফ-স্ক্রিন উদ্যোগও সমানভাবে প্রশংসিত। সেই ধারাবাহিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ এবার তাঁর মুকুটে যুক্ত হচ্ছে নতুন সম্মাননা। আগামী ৯ মে গোল্ড গালা ২০২৬-এ তাঁকে ‘গ্লোবাল ভ্যানগার্ড অনার’ প্রদান করা হবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিউজিক সেন্টারে আয়োজিত এই জমকালো অনুষ্ঠানে বিশ্বের নানা প্রান্তের শিল্পী, নির্মাতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত থাকবেন। এক সাক্ষাৎকারে প্রিয়াঙ্কা বলেছেন, ‘শিল্পের কোনো সীমানা নেই। ভাষা, ভূগোল বা সংস্কৃতি যা-ই হোক, একজন শিল্পীর স্বপ্ন সর্বজনীন। এই সম্মান আমাকে আরও দায়বদ্ধ করছে। যাতে আমি সেসব কণ্ঠস্বরকে আরও জোরে তুলে ধরতে পারি, যা এখনও শোনা হয়নি।’
আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত আড়াই দশক ধরে এশীয় ও পাশ্চাত্য বিনোদন জগতের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন প্রিয়াঙ্কা। বলিউড থেকে হলিউড। দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই সমান দক্ষতায় কাজ করে তিনি এক অনন্য অবস্থান তৈরি করেছেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও পথপ্রদর্শক।
আয়োজকরা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে তাঁর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘পার্পল পেবল পিকচার্স’-এর কথা। এই ব্যানারের মাধ্যমে তিনি শুধু নিজেই কাজ করেননি; বরং নতুন ও উদীয়মান প্রতিভাদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আঞ্চলিক ভাষার গল্পকে বৈশ্বিক দর্শকের সামনে উপস্থাপনের এই প্রয়াস প্রশংসিত হয়েছে বিভিন্ন মহলে।

প্রিয়াঙ্কার পাশাপাশি একই মঞ্চে কিংবদন্তি অ্যাকশন তারকা জেট লি-কে প্রদান করা হবে ‘গোল্ড লিজেন্ড অনার্স’। মার্শাল আর্টভিত্তিক সিনেমাকে বিশ্বমঞ্চে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অবদানের জন্য তাঁকে এই আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করা হচ্ছে।
এ ছাড়াও ‘মার্ভেল’-খ্যাত সিমু লিউ পাচ্ছেন ‘গোল্ড মোগল অনার্স’। পাশাপাশি গায়িকা ইজেই এবং অভিনেতা চার্লস মেল্টন-কেও বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে সম্মানিত করা হবে।
সব মিলিয়ে, গোল্ড গালা ২০২৬ শুধু একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান নয়, এটি বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক সংযোগ, বৈচিত্র্য এবং সৃজনশীলতার এক উজ্জ্বল উদযাপন। আর সেই মঞ্চে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার এই স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে দক্ষিণ এশীয় শিল্পীদের জন্যও এক বড় প্রেরণা।
