চালুর ৫ দিনেই বন্ধ বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩ নম্বর ইউনিট
মোস্তাফিজুর রহমান বকুল, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
ছবি: বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩নং ইউনিট
সাড়ে ৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে জেনারেল ওভারহলিং করে চালুর পাঁচ দিনের মাথায় আবারও বন্ধ হয়ে গেছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার ৩ নম্বর ইউনিট। ইউনিটটি পুনরায় চালু করতে আরও অন্তত দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে, ওভারহলিংয়ের নামে পুরোনো যন্ত্রাংশ ঘষামাজা করে পুনঃস্থাপনের অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার ৩ নম্বর ইউনিটটি জেনারেল ওভারহলিংয়ের জন্য বন্ধ করা হয়। টানা প্রায় সাত মাস ওভারহলিং শেষে গত ২০ মে বিকেল ৫টা ৪৬ মিনিটে ইউনিটটি চালু করা হয়। এ কাজে ব্যয় হয় ৪ দশমিক ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৫১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা)। দীর্ঘ সময় ও বিপুল অর্থ ব্যয়ে ওভারহলিংয়ের পর বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায়, ২৫ মে দুটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে ইউনিটটি আবারও বন্ধ হয়ে যায়।
এ নিয়ে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একাধিক প্রকৌশলী ও কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, ওভারহলিংয়ের সময় পুরোনো যন্ত্রাংশ ঘষামাজা করে পুনরায় ব্যবহার করা হয়েছে। এ খাতে মোটা অঙ্কের অর্থ লুটপাট হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন। তাদের মতে, তদারকির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই এ জন্য দায়ী।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে ভোরের কাগজকে বলেন, “৩ নম্বর ইউনিটটি ওভারহলিং করে চালুর পাঁচ দিনের মাথায় দুটি বড় ধরনের যন্ত্র নষ্ট হয়ে ২৫ মে বন্ধ হয়ে যায়। চীন থেকে যন্ত্রাংশ আনা হচ্ছে। এজন্য আরও দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।”
ওভারহলিং ব্যয় সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পূর্বে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী ওভারহলিংয়ের জন্য ৪ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে।” তবে পুরোনো যন্ত্রাংশ ঘষামাজা করে লাগানোর অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে ১ নম্বর ইউনিট চালু রয়েছে এবং সেখান থেকে ৪৫ থেকে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে মোট তিনটি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ১ ও ২ নম্বর ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদনক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট এবং ৩ নম্বর ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ২৭৫ মেগাওয়াট। ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে ২ নম্বর ইউনিটটি পুরোপুরি বিকল হয়ে পড়ে আছে।
বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা ব্যবহার করে কেন্দ্রটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনাল। অভিযোগ রয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী উৎপাদন সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ছোটখাটো মেরামত ও যন্ত্রাংশ সরবরাহের কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি তা করেনি। ফলে বারবার বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।
