ঝালকাঠি
বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, ঝুঁকিপূর্ণ ৭ এলাকা চিহ্নিত
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ঝালকাঠিতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা শহরের সাতটি এলাকাকে ডেঙ্গু ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সঙ্গে মশা নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, বর্তমানে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ১২ জন, নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮ জন, রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন এবং কাঁঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, জেলা শহরের কাটপট্টি, বান্দা ঘাট, বাঁশপট্টি, কলাবাগান, স্টেশন রোড, সিটি পার্ক ও ফকির বাড়ি এলাকাকে ডেঙ্গুর জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় এডিস মশার বিস্তার রোধে বিশেষ নজরদারি এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার সুপারিশ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাসুম ইফতেখার বলেন, “গত বছরের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জ্বর দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। সময়মতো শনাক্ত হলে জটিলতা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।”
সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. আবুয়াল হাসান বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। বাসাবাড়ি, ছাদ, আঙিনা ও আশপাশে কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন জানান, কয়েকদিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ে। বর্তমানে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চলছে। তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
চিকিৎসকরা বলছেন, জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও গাঁটে ব্যথাসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পাশাপাশি বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার বংশবিস্তার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
