‘ছেলে হওয়ার পরে আর পারতাম না’, যে অনুভূতির কথা জানালেন পরিণীতি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম
ফাইল ছবি
অভিনয় করতে গিয়ে পর্দার চরিত্রের যন্ত্রণা অনুভব করা এক বিষয়, আর সেই যন্ত্রণার সঙ্গে নিজের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা মিশে যাওয়া সম্পূর্ণ অন্য ব্যাপার। পরিণীতি চোপড়ার ক্ষেত্রে তাঁর আসন্ন ওয়েব সিরিজ ‘শক’-এর শুটিংয়ের সময় এই সীমারেখাটি যেন অদ্ভুতভাবে মুছে গিয়েছিল। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেই এই সিরিজের শুটিং করেছেন তিনি।
অভিনেত্রীর মতে, সেই সময় যদি তিনি সন্তানের জন্ম দিয়ে ফেলতেন, তবে পর্দার চরিত্রটির মানসিক যন্ত্রণা সামলানো তাঁর পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠত।
‘শক’ সিরিজের প্রেক্ষাপট
এই সিরিজে পরিণীতিকে দেখা গিয়েছে এমন এক মায়ের চরিত্রে, যার সদ্যোজাত কন্যা জন্মের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাসপাতাল থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়। মেয়েকে খুঁজে পাওয়ার আশায় বছরের পর বছর ছুটতে ছুটতে তাঁর গোটা জীবনটাই গ্রাস করে নেয় সেই অনুসন্ধান। একপর্যায়ে উদ্বেগ, সন্দেহ ও অবিরত মানসিক আবেশ তাঁর সমগ্র জীবনকে গ্রাস করে।

আরও পড়ুন: ২৮ হাজার টাকার শাড়ি নিয়ে আদালতে যা বললেন তিশা
বাস্তব মাতৃত্ব ও শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা
এই সিরিজটির শুটিং চলাকালীনই, ২০২৫ সালে নিজের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর জানতে পারেন পরিণীতি। তবে তত দিনে শুটিংয়ের একটি বড় অংশের কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। অভিনেত্রীর কাছে এটাই যেন আশীর্বাদস্বরূপ ছিল, কারণ তখন পর্যন্ত মাতৃত্বের বাস্তব অভিজ্ঞতা তাঁর হয়নি।
পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর পুত্রসন্তানের জন্ম দেন পরিণীতি। তিনি জানিয়েছেন, মা হওয়ার পর এখন যখন তিনি ওই চরিত্রের কথা ভাবেন, তখনই এক অসহ্য কষ্ট অনুভব করেন। নিজে মা হওয়ার পরে যদি ওই দৃশ্যগুলোতে অভিনয় করতে হতো, তবে পরিস্থিতি কতটা কঠিন হতো তা তিনি ভাবতেও পারেন না। তাঁর আশঙ্কা, চরিত্রের সঙ্গে বাস্তবের আবেগের দূরত্ব বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ত এবং প্রতিটি দৃশ্যেই তিনি হয়তো সত্যি সত্যিই কেঁদে ফেলতেন।

মাতৃত্বের পর দৃষ্টিভঙ্গির বদল
পুত্রসন্তানের জন্মের পর অভিনেত্রীর জীবনকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিও সম্পূর্ণ বদলে গেছে। তাঁর মতে, মাতৃত্বের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার এই পথচলা তাঁকে আরও অনেক বেশি পরিণত করেছে। তাই বর্তমান সময়ে কোনো চরিত্রে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে পরিণীতির কাছে মাতৃত্ব কেবল একটি অভিনয়মাত্র নয়। বাস্তবের অভিজ্ঞতাকে সঙ্গে নিয়ে এখন তিনি সেই আবেগকে আরও গভীর ও নিখুঁতভাবে উপলব্ধি করতে পারছেন। ‘শক’-এর শুটিংয়ের সময় যে অনুভূতিগুলো তাঁর কাছে কেবলই কল্পনার ছিল, মা হওয়ার পর আজ যেন সেগুলিই হয়ে উঠেছে আরও বেশি বাস্তব ও জীবন্ত।
সূত্র: আনন্দবাজার।
