বজ্রঝড়ে বিপর্যস্ত শহর, বিদ্যুৎহীন ৪৫ হাজার গ্রাহক
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কানাডার বৃহত্তম শহর টরন্টোতে শক্তিশালী বজ্রঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা উপড়ে পড়া, সড়কে জলাবদ্ধতা ও ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রায় ৪৫ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। বাতিল ও বিলম্বিত হয়েছে বেশ কয়েকটি ফ্লাইট।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) টরন্টোতে আঘাত হানা ঝড়ে মুষলধারে বৃষ্টির সঙ্গে ছিল প্রচণ্ড বাতাস ও বড় আকারের শিলাবৃষ্টি। ঝড়ের তীব্রতার কারণে শহরের কয়েকটি এলাকায় টর্নেডোর আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়।
বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান টরন্টো হাইড্রোর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় ৪৫ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন। ঝড়ের কারণে বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে এবং সড়কে পানি জমে যায়। এতে টরন্টোর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ইস্ট ইয়র্ক এলাকার মাইকেল গ্যারন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার পানিতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (সিবিসি) প্রকাশিত ছবিতে টরন্টোর উত্তরে ভন শহরের বিভিন্ন সড়কে গাড়িগুলো পানিতে প্রায় ডুবে থাকতে দেখা গেছে।
টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, বুধবার সকাল থেকেই শহরের জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র সক্রিয় করা হয়। ঝড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়া, গাছ উপড়ে যাওয়া ও জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় নগর কর্তৃপক্ষের কর্মীরা কাজ শুরু করেন।
বন্যার পানি ও প্রবল বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসাবশেষের কারণে যেসব এলাকায় গণপরিবহন ব্যাহত হয়েছে, সেসব এলাকায় দ্রুত সেবা স্বাভাবিক করতে টরন্টো ট্রানজিট কমিশন কাজ করছে বলেও জানান মেয়র।
এদিকে ঝড়ের কারণে বুধবার সন্ধ্যায় টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকা কয়েক ডজন ফ্লাইট বিলম্বিত বা বাতিল করা হয়।
কানাডার আবহাওয়া সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ কানাডা বৃহত্তর টরন্টো এলাকায় তীব্র বজ্রঝড়ের জন্য জারি করা কমলা সতর্কতা পরে তুলে নেয়। তবে অন্টারিওর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপপ্রবাহ ও তীব্র বজ্রঝড়ের আশঙ্কায় হলুদ সতর্কতা বহাল রয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
