×

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রী

সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু নয়, সবাইকে বাংলাদেশি পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১২ পিএম

সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু নয়, সবাইকে বাংলাদেশি পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে

ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে কেউ সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু হিসেবে নয়, সবাইকে নিজেদের বাংলাদেশি হিসেবে ভাবতে হবে। দল, মত, ধর্ম, বর্ণ কিংবা অন্য কোনো পরিচয় যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ ও বৈষম্য তৈরি করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্টজনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে পুরোহিত ও সেবাইতদের মধ্যে সম্মানীও বিতরণ করা হয়।

হিন্দু ধর্মীয় শাস্ত্রমতে, কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে সনাতন ধর্মের প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণের জন্ম। বিশ্বাস করা হয়, প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে মথুরায় শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। সে সময় মথুরার শাসক ছিলেন নিষ্ঠুর ও অত্যাচারী কংস। শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের পর কংসের পতন ঘটে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন ছিল শ্রীকৃষ্ণের অন্যতম ব্রত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশেও একসময় গণতন্ত্রকামী মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়ে কংসের মতো নিষ্ঠুর শাসন জনগণের ওপর চেপে বসেছিল। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে গণতন্ত্রকামী জনগণ হাজারো প্রাণের বিনিময়ে ‘কংসরূপী’ সেই ফ্যাসিস্টদের পতন ঘটিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভক্ত প্রশাসন ও অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটিয়ে এখন দেশ পুনর্গঠনের সময়।

বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের সহাবস্থানকে বৈচিত্র্যময় সমাজের সৌন্দর্য হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে যারা ‘সংখ্যালঘু’ বা ‘সংখ্যাগুরু’ হিসেবে বিবেচিত, ইউরোপ কিংবা আমেরিকায় গেলে তাদের সবাইকেই কথিত ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে দেখা হতে পারে। তাই বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু পরিচয় মুখ্য বিষয় নয়।

দল, মত, ধর্ম, বর্ণ ও পরিচয় যেন বিভেদ-বৈষম্যের কারণ না হয়- এমন উপলব্ধি থেকেই দেশের সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ রাখতে স্বাধীনতার ঘোষকের রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সব নাগরিকের গর্বিত পরিচয় হলো- ‘আমরা বাংলাদেশি’।

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে দল-মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতি পালন করে আসছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সময়ে ‘কংস’ চরিত্রের মানুষেরা রাষ্ট্র ও সমাজে বিভেদ-বিরোধ জিইয়ে রাখার চেষ্টা করেছে। সমাজবিরোধী অপশক্তি যাতে আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং কেউ যাতে সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সবাইকে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও দৃঢ় করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

দেশকে অস্থিতিশীল করতে বিভিন্নভাবে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে কেউ কেউ মানুষকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উসকানি বা বিদ্বেষ যাতে সমাজে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। সার্বভৌমত্ব সুসংহত রেখে সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে হলে নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং সব ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান তিনি।

বর্তমান সরকার কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলা হবে, যা তার সামর্থ্য অনুযায়ী দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। বিনিময়ে নাগরিকরা রাষ্ট্রের প্রতি নিজেদের সব দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র-সরকার ও নাগরিকদের পারস্পরিক দায়িত্ব, আস্থা ও আলাপের মধ্য দিয়েই সবার প্রত্যাশিত কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে উঠবে। রাষ্ট্র ও সমাজে কেউ যাতে পিছিয়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ ও সহযোগিতা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশ আপনার, আমার, আমাদের সবার। নাগরিক হিসেবে এই দেশে আপনার-আমার-আমাদের সবার অধিকার সমান।’

নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবনযাপন করা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ও বিএনপি বিশ্বাস করে- ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।’

শুভ জন্মাষ্টমীর পর আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সবাই যেন নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব শান্তি, স্বস্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে উদযাপন করতে পারেন।

জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি দুর্গোৎসবের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

পদত্যাগের নির্দেশের খবর নিয়ে যা বললেন ইশরাক

পদত্যাগের নির্দেশের খবর নিয়ে যা বললেন ইশরাক

গাজীপুরে ঝুটের গুদামে ভয়াবহ আগুন

গাজীপুরে ঝুটের গুদামে ভয়াবহ আগুন

পদত্যাগের নির্দেশের গুঞ্জনের মধ্যেই প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের বার্তা

পদত্যাগের নির্দেশের গুঞ্জনের মধ্যেই প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের বার্তা

স্বপ্নের নারীর খোঁজে ১৯০০ কিমি পাড়ি, পরে জানলেন তিনি এআই দিয়ে তৈরি

স্বপ্নের নারীর খোঁজে ১৯০০ কিমি পাড়ি, পরে জানলেন তিনি এআই দিয়ে তৈরি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App