মানসিক স্বাস্থ্যে খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
আমাদের মানসিক সুস্থতা, শারীরিক স্বাস্থ্য এবং খাদ্যাভ্যাস একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। আমরা কী খাই, কতটুকু খাই এবং কেন খাই- এসব বিষয় আমাদের মানসিক অবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। আবার মানসিক চাপ, বিষণ্ণতা বা আত্মবিশ্বাসের অভাবও খাদ্যাভ্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সুস্থ জীবনযাপনের জন্য মন ও খাদ্যের এই সম্পর্ক বোঝা অত্যন্ত জরুরি।
ওজন নিয়ে নেতিবাচক ভাবনা বাড়ায় মানসিক চাপ
নিজের শারীরিক গঠন নিয়ে অসন্তুষ্টি বা নেতিবাচক ধারণা অনেকের মধ্যেই হীনমন্যতা তৈরি করে। অতিরিক্ত ওজনের কারণে কেউ কেউ নিজেকে অন্যদের তুলনায় কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন, যা ধীরে ধীরে বিষণ্ণতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে দ্রুত ওজন কমানোর আশায় প্রয়োজনের তুলনায় কম খাওয়া শুরু করেন।
অন্যদিকে, যাদের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কম, তাদের মধ্যেও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। দ্রুত ওজন বাড়ানোর চেষ্টায় তারা অনেক সময় ফাস্ট ফুড ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা হতে পারে ভয়াবহ
অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা একটি গুরুতর খাদ্যজনিত মানসিক ব্যাধি। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অত্যন্ত রোগা হলেও নিজেদের মোটা মনে করেন। ফলে তারা খাবার কমিয়ে দেন, কঠোর ডায়েট মেনে চলেন কিংবা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে খাবার খাওয়ার পর ইচ্ছাকৃতভাবে বমিও করেন। এতে শরীরে মারাত্মক পুষ্টিহীনতা ও নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে।
আরো পড়ুন : অফিসে ঘন ঘন ক্ষুধা পেলে যা করবেন
বিষণ্ণতায় বদলে যায় খাদ্যাভ্যাস
বিষণ্ণতার প্রভাবে কারও ক্ষুধা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, আবার কারও ক্ষুধা একেবারেই কমে যায়। কোনো ডায়েট ছাড়াই অল্প সময়ের মধ্যে শরীরের ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া বিষণ্ণতার একটি লক্ষণ হতে পারে। অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা যেমন সমস্যা তৈরি করে, তেমনি ক্ষুধামন্দাও শরীরকে দুর্বল করে দেয়।
মানসিক চাপে বাড়ে জাঙ্ক ফুডের প্রতি ঝোঁক
মানসিক চাপের সময় অনেকেই মিষ্টি, চকলেট, কোমল পানীয়, জাঙ্ক ফুড বা কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবারের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হন। এসব খাবার সাময়িকভাবে ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি করলেও দীর্ঘমেয়াদে ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগসহ নানা শারীরিক সমস্যা এবং মানসিক জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়।
মন খারাপের সমাধান খাবার নয়
অনেকেই দুঃখ, হতাশা বা উদ্বেগ কাটাতে অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলেন। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে ম্যালঅ্যাডাপটিভ কোপিং বলা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পরিবর্তে হাঁটাহাঁটি করা, নিয়মিত ব্যায়াম, ডায়েরি লেখা, গান শোনা বা প্রিয় মানুষের সঙ্গে কথা বলার মতো স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। এগুলো মানসিক চাপ মোকাবিলায় বেশি কার্যকর।
মানসিক রোগেও দেখা দেয় খাদ্যসংক্রান্ত সমস্যা
কিছু গুরুতর মানসিক রোগ, যেমন সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে খাবার নিয়ে অযৌক্তিক ভয় বা সন্দেহ তৈরি হতে পারে। কেউ কেউ মনে করেন, তাদের খাবারে বিষ মেশানো হয়েছে। এই ভ্রান্ত ধারণার কারণে তারা খাবার খেতে অস্বীকৃতি জানান, ফলে অপুষ্টি, ওজন হ্রাস এবং অন্যান্য শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে শুধু পুষ্টিকর খাবার খেলেই হবে না, একই সঙ্গে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, ইতিবাচক জীবনযাপন এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মন ও শরীর—দুটিকে সুস্থ রাখতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের বিকল্প নেই।
