পলিশ চাল কি সত্যিই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর? জেনে নিন এর প্রভাব ও ঝুঁকি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০২:২১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ভাত একটি অপরিহার্য নাম। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে চকচকে ও আকর্ষণীয় দেখতে ‘পলিশ করা চাল’ বা মিনিকেট চালের ব্যবহার বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেখতে সুন্দর ও ঝরঝরে হলেও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত বা পলিশ করা চাল মানবদেহের জন্য কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মধ্যে রয়েছে নানা উদ্বেগ। চাল পলিশ করার প্রক্রিয়ায় চালের ওপরের পুষ্টিকর আবরণ (যেমন- ব্রান ও জার্ম) হেঁটে ফেলা হয়, যার ফলে এটি তার মূল পুষ্টিগুণ হারিয়ে ফেলে।
পলিশ চাল মানবদেহে কী ধরনের প্রভাব ফেলে?
১. ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি:
পলিশ চালে রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট এবং উচ্চ ‘গ্লাইসেমিক ইনডেক্স’ (GI) থাকে। এই চাল খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়। ফলে নিয়মিত পলিশ চাল খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুলাংশে বেড়ে যায়।
২. পুষ্টিহীনতা ও ভিটামিনের অভাব:
চাল অতিরিক্ত পলিশ করার ফলে এর খোসায় থাকা প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স (বিশেষ করে থায়ামিন বা ভিটামিন B1), আয়রন ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান ধ্বংস হয়ে যায়। দীর্ঘমেয়াদে এই চাল খেলে শরীরে থায়ামিনের অভাবে ‘বেরিবেরি’ রোগের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।
৩. হৃদরোগ ও স্থূলতার আশঙ্কা:
পলিশ করা চালে ফাইবারের (আঁশ) পরিমাণ একেবারেই কম থাকে। ফাইবার কম থাকার কারণে এটি দ্রুত হজম হয়ে যায় এবং ঘন ঘন ক্ষুধা পায়। ফলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়, যা স্থূলতা বা ওজন বৃদ্ধির প্রধান কারণ। অতিরিক্ত ওজন আবার হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
৪. হজমের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য:
পাচনতন্ত্র বা পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে আঁশজাতীয় খাবার অত্যন্ত জরুরি। পলিশ করা চালে ফাইবার না থাকায় এটি পরিপাকনালীর স্বাভাবিক গতি হ্রাস করে, যা দীর্ঘমেয়াদে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
৫. কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ বৃদ্ধি:
অপলিশ করা বা লাল চালে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও প্রাকৃতিক তেল থাকে যা রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু পলিশ চালে এই গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলো অনুপস্থিত থাকায় এটি রক্তে চর্বির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না।
কীভাবে সচেতন হবেন?
লাল বা অপলিশ চালের ব্যবহার: প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পলিশ করা সাদা চালের পরিবর্তে অপলিশ করা চাল বা লাল চাল (Brown Rice) অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করুন।
সঠিক পদ্ধতিতে রান্না: ভাত রান্না করার সময় অতিরিক্ত মাড় বা ফ্যান ফেলে না দিয়ে সঠিক মাপে পানি দিয়ে ফ্যানসহ ভাত রান্না করলে কিছু পুষ্টিগুণ বজায় থাকে।
শাকসবজি ও প্রোটিন যুক্ত করা: পলিশ চালের ভাতের সাথে প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি, ডাল ও সালাদ গ্রহণ করুন, যাতে ফাইবারের ঘাটতি পূরণ হয়।
প্রতিদিনের সুন্দর ও পরিষ্কার চাল খাওয়ার মানসিকতা আমাদের অজান্তেই স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সুস্থ জীবনযাপন ও জটিল রোগ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে অতি-প্রক্রিয়াজাত পলিশ চাল বর্জন করে পুষ্টিসমৃদ্ধ লাল চাল বা প্রাকৃতিক চাল বেছে নেওয়া উচিত।
