মোবাইল-ল্যাপটপে বিশ্বকাপ দেখতে কত টাকা খরচ হবে?
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আজ শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের বড় অংশ এবারও খেলা দেখবেন মোবাইল, ল্যাপটপ বা স্মার্ট টিভিতে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, অনলাইনে পুরো বিশ্বকাপ দেখতে আসলে কত টাকা খরচ হতে পারে?
বাংলাদেশে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে টিভির পাশাপাশি দেখা যাবে একাধিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। দেশের দুই শীর্ষস্থানীয় টেলিকম অপারেটর গ্রামীণফোন ও বাংলালিংকের স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম বায়োস্কোপ ও টফিতে বিশ্বকাপের ম্যাচ স্ট্রিম করা হবে। Bioscope+ ছাড়াও MyGP ও Skitto অ্যাপের মাধ্যমেও খেলা দেখার সুযোগ থাকছে। তাই দর্শকদের জন্য এবার অনলাইনে খেলা দেখার পথ একটির বেশি।
সাবস্ক্রিপশনের খরচ খুব বেশি নয়। টফির বিশ্বকাপ আর্লি বার্ড পাসের দাম ৯৯ টাকা। পরে এই পাসের দাম ১২৯ টাকা হতে পারে বলে প্রচারণায় জানানো হয়েছে। অন্যদিকে Bioscope+–এর ক্ষেত্রে ৯৭ টাকার পাসের কথা বলা হয়েছে, যার মেয়াদ ৫০ দিন। অর্থাৎ শুধু স্ট্রিমিং পাসের হিসাব ধরলে একজন দর্শক প্রায় ১০০ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যেই পুরো টুর্নামেন্টের অ্যাকসেস পেতে পারেন।
তবে আসল খরচ শুধু সাবস্ক্রিপশনে শেষ হচ্ছে না। অনলাইনে খেলা দেখতে সবচেয়ে বড় খরচ হতে পারে ইন্টারনেট ডেটা। আপনি কোন মানে খেলা দেখবেন, কতগুলো ম্যাচ দেখবেন এবং ওয়াইফাই নাকি মোবাইল ডেটা ব্যবহার করবেন—মোট খরচ নির্ভর করবে এসব বিষয়ের ওপর।
সাধারণভাবে ৪৮০পি বা মাঝারি মানে এক ঘণ্টা স্ট্রিমিংয়ে প্রায় ০.৭ জিবি ডেটা লাগতে পারে। ৭২০পি এইচডিতে ঘণ্টায় আনুমানিক ১.৫ জিবি এবং ১০৮০পি ফুল এইচডিতে ঘণ্টায় প্রায় ৩ জিবি পর্যন্ত ডেটা খরচ হতে পারে। একটি ফুটবল ম্যাচ ৯০ মিনিট হলেও বিরতি, প্রি-ম্যাচ আলোচনা, ইনজুরি টাইম ও পোস্ট-ম্যাচ মিলিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে হিসাব করাই নিরাপদ।
সে হিসাবে ৪৮০পি মানে একটি পূর্ণ ম্যাচ দেখতে প্রায় ১.৪ জিবি ডেটা লাগতে পারে। ৭২০পি মানে লাগতে পারে প্রায় ৩ জিবি। আর ১০৮০পি মানে দেখলে একটি ম্যাচেই প্রায় ৬ জিবি পর্যন্ত ডেটা খরচ হতে পারে।
যদি কেউ শুধু নিজের প্রিয় দলের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ দেখেন, তাহলে ৪৮০পি মানে লাগতে পারে প্রায় ৪ থেকে ৫ জিবি ডেটা। ৭২০পি মানে লাগতে পারে ৯ জিবির মতো। ১০৮০পি মানে সেই হিসাব ১৮ জিবির কাছাকাছি চলে যেতে পারে।
যারা বড় ম্যাচগুলো বেছে দেখবেন—ধরা যাক ২০টি ম্যাচ। তাদের জন্য ডেটা খরচ অনেকটাই বাড়বে। ৪৮০পি মানে ২০ ম্যাচে প্রায় ২৮ জিবি, ৭২০পি মানে প্রায় ৬০ জিবি এবং ১০৮০পি মানে প্রায় ১২০ জিবি ডেটা লাগতে পারে।
আর কেউ যদি পুরো বিশ্বকাপের সব ১০৪টি ম্যাচ দেখতে চান, তাহলে হিসাব আরও বড়। ৪৮০পি মানে প্রায় ১৪৫ থেকে ১৫০ জিবি, ৭২০পি মানে ৩০০ জিবির বেশি এবং ১০৮০পি মানে ৬০০ জিবির বেশি ডেটা লাগতে পারে। তাই মোবাইল ডেটা দিয়ে পুরো টুর্নামেন্ট দেখা বেশ ব্যয়বহুল হতে পারে।
বাংলালিংক গ্রাহকেরা টফির মাধ্যমে বিশ্বকাপ পাস বা নির্দিষ্ট ইন্টারনেট প্যাকের সঙ্গে সুবিধা পেতে পারেন। অন্যদিকে গ্রামীণফোন ও স্কিটো ব্যবহারকারীরা Bioscope+, MyGP ও Skitto অ্যাপের মাধ্যমে খেলা দেখার সুযোগ পাবেন। তবে প্যাকেজের ধরন, দাম ও মেয়াদ অ্যাপের সর্বশেষ অফারের ওপর নির্ভর করবে।
অন্য অপারেটরের গ্রাহকদের জন্যও অনলাইনে খেলা দেখার সুযোগ থাকছে। টফি ও Bioscope+–এর প্রচারণায় যেকোনো নেটওয়ার্ক বা ওয়াইফাই দিয়ে খেলা দেখার সুবিধার কথা বলা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে দর্শককে সংশ্লিষ্ট অ্যাপ থেকে পাস কিনতে হবে এবং নিজের ইন্টারনেট খরচ আলাদা করে ধরতে হবে।
সবচেয়ে কম খরচে দেখতে চাইলে মোবাইলে ৪৮০পি বা ডেটা সেভার মোড ব্যবহার করাই ভালো। ছোট স্ক্রিনে ৪৮০পি সাধারণত গ্রহণযোগ্য মান দেয় এবং ডেটা খরচও তুলনামূলক কম থাকে। ল্যাপটপে দেখলে ৭২০পি ভালো অভিজ্ঞতা দেবে, তবে ডেটা খরচ বাড়বে। স্মার্ট টিভি বা বড় স্ক্রিনে ১০৮০পি মান ভালো হলেও সেটিই সবচেয়ে বেশি ডেটা খরচ করবে।
তাই বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য সহজ হিসাব হলো—শুধু সাবস্ক্রিপশন ধরলে বিশ্বকাপ দেখা যাচ্ছে প্রায় ১০০ টাকায়। কিন্তু মোবাইল ডেটা দিয়ে নিয়মিত ম্যাচ দেখতে চাইলে মোট খরচ কয়েকশ থেকে হাজার টাকার ওপরে চলে যেতে পারে। প্রিয় দলের কয়েকটি ম্যাচ দেখলে খরচ কম, আর পুরো টুর্নামেন্ট মোবাইল ডেটায় দেখতে চাইলে বড় ডেটা প্যাক লাগবেই।
শেষ কথা, বিশ্বকাপ অনলাইনে দেখার আগে শুধু পাস কিনলেই হবে না। কোন প্ল্যাটফর্মে দেখবেন, নিজের ডেটা প্যাক কত জিবির, ভিডিও কোয়ালিটি কী রাখবেন এবং কত ম্যাচ দেখবেন—এই চারটি হিসাব আগে করে নিলেই খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।
