ভারতে এবার সড়কমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে নতুন পার্টির আত্মপ্রকাশ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১:২৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর এবার কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহনমন্ত্রী নিতিন গডকড়ীর পদত্যাগের দাবিতে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন একটি সংগঠন ‘ই-২০ জনতা পার্টি’ (ইজেপি)। পেট্রোলে ইথানল মিশ্রণের সরকারি নীতির বিরোধিতা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠনটি দ্রুত আলোচনায় এসেছে।
রোববার (২৭ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ, আমরা কাঁকড়া’ স্লোগান এবং কাঁকড়াকে দলীয় প্রতীক হিসেবে নিয়ে দেশজুড়ে প্রচারণা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইজেপি। সংগঠনটি ব্যঙ্গ, মিম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণাকে আন্দোলনের প্রধান কৌশল হিসেবে বেছে নিয়েছে। গত ২৬ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তারা নিতিন গডকড়ীর পদত্যাগ দাবি করে।
ইজেপির দাবি, জ্বালানি নীতির বিষয়ে জনগণের পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানার অধিকার রয়েছে। তাদের ভাষ্য, এটি কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়; বরং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি বিষয়। তাই ইথানল মিশ্রণের নীতি সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা ইথানল মিশ্রণের সম্পূর্ণ বিরোধিতা করছে না কিংবা জ্বালানিতে ভর্তুকিও দাবি করছে না। তাদের মূল দাবি হলো—প্রতিটি জ্বালানি স্টেশনে শতভাগ বিশুদ্ধ পেট্রোলের ব্যবস্থা রাখা, ইথানল মিশ্রণের হার, ব্যয় ও প্রভাবের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা এবং ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা, জ্বালানি সাশ্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের ওপর এর প্রভাব নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা।
জানা গেছে, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে খোলা একটি এক্স অ্যাকাউন্ট সম্প্রতি নাম পরিবর্তন করে ‘ই-২০ জনতা পার্টি’ হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতাদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে আত্মপ্রকাশের পরই ইনস্টাগ্রামে প্রায় সোয়া দুই লাখ এবং এক্সে ৩৫ হাজারের বেশি অনুসারী অর্জন করেছে তারা।
যদিও জ্বালানি নীতির দায়িত্ব ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের, তবু দীর্ঘদিন ধরে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় নিতিন গডকড়ীকেই এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে।

এদিকে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, গডকড়ীর পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থের কারণে তিনি ইথানল নীতিকে সমর্থন করছেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। বিষয়টি ভারতের পার্লামেন্টে উত্থাপনের কথাও জানিয়েছে বিরোধীরা।
ভারতে ই-২০ জ্বালানির ব্যবহার নিয়ে বিতর্কও ক্রমেই বাড়ছে। অনেক গাড়িচালকের অভিযোগ, ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল ব্যবহারে ইঞ্জিনের ক্ষতি হচ্ছে এবং জ্বালানি দক্ষতা ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাচ্ছে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও মাইলেজ কমার বিষয়টি আংশিকভাবে স্বীকার করা হয়েছে। তবে সরকারের দাবি, পেট্রোলে ইথানলের ব্যবহার ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত হওয়ায় আমদানি ব্যয় কমছে এবং কার্বন নিঃসরণও হ্রাস পাচ্ছে।
সরকারের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় ইজেপি। সংগঠনটি জানিয়েছে, দিল্লির ট্যাক্সি ও পর্যটক পরিবহন সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংগঠনের সঙ্গে যৌথভাবে আগামী ৩১ জুলাই গাড়ি মিছিল এবং ৪ আগস্ট ‘পার্লামেন্ট চলো’ কর্মসূচি পালন করা হবে। তাদের প্রশ্ন, পূর্ণমূল্য পরিশোধের পরও কেন ভোক্তাদের ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহার করতে বাধ্য করা হবে।
