আল-জাজিরার বিশ্লেষণ
যে কারণে ইরানে বোমাবর্ষণ বন্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১০:০৩ পিএম
ফাইল ছবি
টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে আপাতত কিছুটা উত্তেজনা কমেছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ বিমান হামলা বন্ধ করার পর উভয় পক্ষের সামরিক অভিযানেও বিরতি দেখা গেছে।
হামলা বন্ধ হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলারও কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এতে সংঘাতের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অস্ত্র বা গোলাবারুদের সংকটের দাবি নাকচ করলেও, যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ কমে আসতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ব্যয় ও ঝুঁকি বিবেচনায় উভয় পক্ষের ওপর কূটনৈতিক উদ্যোগে ফিরে আসার চাপও বাড়ছে।
আরো পড়ুন: ফের আন্দোলনের আলটিমেটাম সিজেপির
তবে সামরিক হামলা বন্ধ হলেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখনো বন্ধ রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, প্রণালির দক্ষিণাংশে নিরাপত্তা নির্দেশনা অমান্য করে কয়েকটি জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে একটি জাহাজ দুর্ঘটনার শিকার হয় এবং অন্যগুলোকে ইরানি কর্তৃপক্ষ উপসাগরে ফিরিয়ে দেয়।
অন্যদিকে, বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলাও আপাতত বন্ধ রয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর এখনো নৌ অবরোধ বহাল আছে। তবে হঠাৎ করে বিমান হামলা স্থগিতের কারণ সম্পর্কে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
আরো পড়ুন: হরমুজে মাইনের আঘাতে ট্যাংকারে বিস্ফোরণ
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতিতে সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব এবং সামরিকভাবে কোনো পক্ষই নির্ণায়ক সুবিধা অর্জন করতে না পারায় উভয় দেশই এখন আলোচনার পথ খুঁজছে।
এদিকে কাতার, মিশর ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশ ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানও অব্যাহত রয়েছে।
