নরওয়ের কাছে হারের পর কেমন ছিল ব্রাজিল ড্রেসিংরুম
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নরওয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল দল নিয়ে কাঁটাছেড়া হয়েছে অনেক। তবে অনেক সেলেসাও ভক্তদের মনে প্রশ্ন হালান্ড ঝড়ে বাদ পড়া নেইমার-ভিনিদের অবস্থা তখন কেমন ছিল?
বিদায়ের পর সেলেসাও ড্রেসিংরুমে নেমে আসে স্তব্ধতা। মাঠে শেষ বাঁশির পর যে কান্না দেখা গিয়েছিল, সেটির রেশ ছিল ড্রেসিংরুমেও। হতাশা, ব্যর্থতার ভার আর অপূর্ণতার কষ্টের মাঝে অবশ্য ভবিষ্যতের কথা বলেছেন কার্লো আনচেলত্তি। আর নেইমার দিয়েছেন জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ করার ইঙ্গিত।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম 'জিই' তাদের প্রতিবেদনে বলে, নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে আবারও কান্নায় ভেঙে পড়েন নেইমার। সতীর্থ ও স্টাফদের সামনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে গত দেড় মাস একসঙ্গে কাটানোর জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে দলকে বিদায়ের বার্তাও দেন ব্রাজিলের ১০ নম্বর।
যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগেই ঘনিষ্ঠদের কাছে নেইমার নাকি জানিয়েছিলেন, এটিই হতে পারে ব্রাজিলের হয়ে তার শেষ বিশ্বকাপ। নরওয়ের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করলেও দলকে বাঁচাতে পারেননি তিনি। ম্যাচ শেষে তার কথাতেও ছিল বিদায়ের সুর।
তবে ড্রেসিংরুমে শুধু বিদায়ের আবেগ ছিল না, ছিল দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টাও। মারকিনিওস, দানিলো, কাসেমিরোর মতো অভিজ্ঞরা তরুণদের ওপর থেকে চাপ সরিয়ে নিতে চেয়েছেন। অধিনায়ক মারকিনিওস বলেন, তারা চেষ্টা করেছেন তরুণদের চাপমুক্ত রাখতে, যাতে এই হারকে তারা আগামী বিশ্বকাপের শিক্ষা হিসেবে নিতে পারে।
মারকিনিওসের মতে, দলীয় খেলায় সবার অংশ থাকলেও বড় দায় অভিজ্ঞদের ও কোচের। তার বিশ্বাস, ব্রাজিলের সামনে দারুণ এক প্রজন্ম আসছে। এই বিশ্বকাপেও তরুণরা দলকে সাহায্য করেছে, আর ২০৩০ সালে আরও বড় ভূমিকা নিতে পারে।
ব্রুনো গিমারায়েস ছিলেন সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়া খেলোয়াড়দের একজন। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করা এই মিডফিল্ডার চোখে জল নিয়ে স্টেডিয়াম ছাড়েন। নকআউট ম্যাচে এমন সুযোগ হাতছাড়া করার কষ্ট তার মুখেই স্পষ্ট ছিল।
কাসেমিরোকেও ড্রেসিংরুমে কাঁদতে দেখা যায়, যা উপস্থিত অনেককেই বিস্মিত করেছে। সাধারণত আবেগ কম দেখানো এই মিডফিল্ডারের চোখেও ছিল হতাশার ভার। হয়তো তারও জানা, এই রাত শুধু একটি হারের নয়, একটি প্রজন্মের অসমাপ্ত স্বপ্নেরও।
মাথেউস কুনিয়া ড্রেসিংরুমের পরিবেশ বোঝাতে বলেন, সেখানে ছিল অনেক দুঃখ, কান্না ও যন্ত্রণা। তার কথায়, অভিজ্ঞদের অনেকেই আগেও এমন কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছেন, কিন্তু এবার তাদের মনে হয়েছিল গল্পটা ভিন্ন হবে। সেই প্রত্যাশা ভেঙে যাওয়ার বেদনা আরও গভীর।
আনচেলত্তি ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের সামনে ভবিষ্যতের কথা বলেছেন। ভুল থেকে শেখা, মানসিকভাবে শক্ত থাকা এবং পরবর্তী বিশ্বকাপ চক্রের দিকে তাকানোর বার্তা দেন তিনি। বাইরে সমালোচনা থাকলেও সিবিএফ আপাতত ইতালিয়ান কোচের ওপর আস্থা রাখছে। ২০৩০ বিশ্বকাপ চক্রের প্রস্তুতিও তাকে ঘিরেই এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ব্রাজিলের ফুটবল কর্তৃপক্ষ।
পরাজয়ের পর ব্রাজিল দল প্রায় দুই ঘণ্টা ড্রেসিংরুমে ছিল। পরে কয়েকজন খেলোয়াড় মাঠেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ায় ফুটবলারদের ক্যাম্প থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। কেউ যুক্তরাষ্ট্রেই থাকবেন, কেউ চাইলে সিবিএফের ভাড়া করা বিমানে ব্রাজিলে ফিরবেন।
