গোলাম পরওয়ার
গণভোট না মানলে রাজনীতি সংঘাতের দিকে যেতে পারে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে দেশ রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা। এটি বাস্তবায়িত না হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
এ সময় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, গণভোট না মানলে রাজনীতি সংঘাতের দিকে যেতে পারে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
‘অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ের ঘটনাবলীর বিচার’ দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য।
এর আগে দুপুরে ১১-দলীয় ঐক্যের নেতারা জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে ছয় দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেন। স্পিকারের হাতে স্মারকলিপির কপি তুলে দেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য এবং জুলাই আন্দোলনে নিহত জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম।
মানববন্ধনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় সংসদের অভিভাবক হিসেবে স্পিকারের প্রতি তারা সংসদ নেতা ও বিরোধী দলের নেতার সঙ্গে আলোচনা করে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আইনগত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, স্পিকার এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এবং জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদীসহ ১১-দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
অন্যদিকে, স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালও উপস্থিত ছিলেন।
১১–দলীয় ঐক্যের ছয় দাবি হলো:
১. গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের জন্য অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও এর অধিবেশন আহ্বান করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি একটি সুস্পষ্ট, সময়বদ্ধ ও বাধ্যতামূলক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হোক।
২. জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সব ব্যক্তি, পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা এবং সহযোগীদের দ্রুত, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হোক।
৩. জুলাই চেতনার আলোকে আইনের শাসন, মানবাধিকার, জবাবদিহি, সুশাসন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব৵বস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক, আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হোক।
৪. জুলাইয়ের প্রতিটি শহীদ পরিবার ও আহতদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, পুনর্বাসন, চিকিৎসা, ক্ষতিপূরণ এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সব সহায়তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হোক।
৫. জুলাইয়ের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও চেতনাকে জাতীয় জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রজন্মান্তরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।
৬. আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশের জন্য উন্মুক্ত করা হোক।
