৪২ বছরের রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টিতে ডুবলো চট্টগ্রাম নগরী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ১৯৮৩ সালের পর গত ৪২ বছরের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টিপাত। অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের প্রভাবে নগরীর বহু এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। সড়ক ও রেলপথ তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টিপাতের তথ্য প্রকাশ করে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানায়, এ সময়ে ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর আগে ১৯৮৩ সালের ৪ আগস্ট ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল।
ভারী বর্ষণের সঙ্গে দুপুরের জোয়ার যুক্ত হওয়ায় নগরীর বিভিন্ন খাল দিয়ে জমে থাকা পানি নদী ও সাগরে নামতে পারেনি। ফলে আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জ, সিডিএ আবাসিক এলাকা, পাঁচলাইশ, কাপাসগোলা, চকবাজার, রামপুর, রহমতগঞ্জ, জামালখান, হালিশহর, মৌলভীপাড়া, কাঠগড় মুসলিমাবাদসহ বহু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। কয়েকটি আবাসিক এলাকার বাসাবাড়ির নিচতলাতেও পানি ঢুকে পড়ে।
এ ছাড়া পোর্ট কানেক্টিং সড়কের হালিশহর আবাসিক এলাকা থেকে নয়া বাজার পর্যন্ত অংশ, অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়কের বড় দিঘির পাড় এবং আরাকান সড়কের সিঅ্যান্ডবি ও মৌলভীপুকুর পাড় এলাকায় সড়ক তলিয়ে যায়। এসব এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং অনেক যানবাহন পানির মধ্যে ধীরগতিতে চলাচল করতে দেখা যায়।
হাটহাজারী-অক্সিজেন সড়কের বড় দিঘির পাড় এলাকায় কোমরসমান পানি জমে যায়। সেখানে মূল সড়কে জমে থাকা পানিতে স্থানীয়দের মাছ ধরতেও দেখা গেছে।
অতিরিক্ত বৃষ্টিতে নগরীর বেশির ভাগ খালের পানি উপচে সড়কে উঠে আসে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত স্লুইস গেটগুলো দুপুরে খুলে দেওয়া হয়।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব পড়ে রেল যোগাযোগেও। ষোলশহর এলাকার রেললাইনে পানি জমে যাওয়ায় প্রায় সাড়ে ছয়শ যাত্রী নিয়ে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস মাঝপথে আটকা পড়ে। একই সঙ্গে পতেঙ্গা এলাকায় একটি বাইপাস সড়কের একাংশ ধসে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল এবং বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আবারও মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। ফলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
