আনচেলত্তিকে ছাঁটাই করে গার্দিওলাকে আনতে চান ব্রাজিলের সাবেক তারকা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম
ফাইল ছবি
নরওয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই ব্রাজিলের বিদায়ের পর সমালোচনা থামছে না। কার্লো আনচেলত্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে যখন আলোচনা চলছে, তখন আরও কড়া মন্তব্য করলেন দেশটির সাবেক ফুটবলার মুলার।
ব্রাজিলের ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য মুলারের মতে, আনচেলত্তিকে সরিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের। তাঁর চোখে ব্রাজিলের প্রয়োজন নতুন ভাবনা, নতুন শক্তি এবং তুলনামূলক কম বয়সী কোচিং নেতৃত্ব।
মুলার বলেন, ‘আমি হতাশ। আমি যদি সিবিএফ হতাম, আনচেলত্তিকে ছাঁটাই করতাম এবং জর্জে জেসুস বা গার্দিওলাকে আনতাম। যেহেতু টাকা খরচ করতেই হবে, আর খরচ করার মতো টাকা আছে, তাহলে জরিমানা দিন। তারা তুলনামূলক তরুণ।’
নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলের হারে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ শেষ হয় শেষ ষোলোতেই। আর্লিং হালান্ডের শেষ দিকের জোড়া গোলে নরওয়ে উঠে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে। যোগ করা সময়ে নেইমার পেনাল্টি থেকে গোল করলেও সেটি শুধু ব্যবধান কমিয়েছে, ব্রাজিলকে বাঁচাতে পারেনি।
এই হারের পর আনচেলত্তির সিদ্ধান্তগুলোও বড় করে আলোচনায় এসেছে। ব্রুনো গিমারায়েসকে পেনাল্টি নিতে দেওয়া, নেইমারকে দ্বিতীয়ার্ধে নামানো, শেষ দিকে দলের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া এবং নরওয়ের চাপের সামনে রক্ষণ ভেঙে পড়া, সবকিছু নিয়েই ব্রাজিলীয় সংবাদমাধ্যমে প্রশ্ন উঠছে।
তবে ব্রাজিলের ফুটবল কর্তৃপক্ষ আপাতত আনচেলত্তিকে সরানোর পথে হাঁটছে না। সিবিএফ পরিচালক রদ্রিগো কায়েতানো জানিয়েছেন, আনচেলত্তিকে সামনে রেখেই ২০৩০ বিশ্বকাপ চক্রের প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে চায় ব্রাজিল। দীর্ঘদিনের অস্থিরতার পর দলটিকে ধারাবাহিকতার মধ্যে রাখতে চায় ফেডারেশন।
মুলার সেই যুক্তিতে সন্তুষ্ট নন। তাঁর মতে, ব্রাজিলের সামনে এখন শুধু ছোটখাটো সংস্কারের সময় নয়, বড় পুনর্গঠনের সময়। সেই কাজের জন্য পেপ গার্দিওলা বা জর্জে জেসুসের মতো কোচকেই ভাবা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দল হয়েও ব্রাজিল এখন দীর্ঘ শিরোপা-খরায়। ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপ জেতা হয়নি। ২০৩০ বিশ্বকাপেও শিরোপা না এলে সেই অপেক্ষা দাঁড়াবে ২৮ বছরে। নরওয়ের কাছে হার সেই হতাশাকে আরও বাড়িয়েছে, কারণ ১৯৯০ সালের পর প্রথমবার শেষ আটে ওঠার আগেই থামল ব্রাজিল।
আনচেলত্তি অবশ্য বিদায়ের পর বলেছেন, এই হারকে নতুন চক্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতে চান তিনি। ব্রাজিলের মাঝমাঠে নতুন প্রতিভা দরকার, নতুন ধারণা দরকার, এমন কথাও বলেছেন ইতালিয়ান কোচ।
কিন্তু ব্রাজিলে এখন প্রশ্ন একটাই, সেই নতুন চক্রের নেতৃত্বে আনচেলত্তি থাকবেন, নাকি সিবিএফ সত্যিই বড় ঝুঁকি নেবে। মুলারের মতো সাবেকদের চোখে সময় এসেছে বড় সিদ্ধান্তের। আর সেই সিদ্ধান্তের নাম হতে পারে, আনচেলত্তি অধ্যায় শেষ করে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া।
