ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে তদন্ত চান ইউরোপীয় আইনপ্রণেতারা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো। ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সেই যোগাযোগের পর যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে নৈতিকতা তদন্তের দাবি তুলেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কয়েক ডজন সদস্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তত ৩৫ জন ইউরোপীয় আইনপ্রণেতা ফিফার স্বাধীন নৈতিকতা কমিটির মাধ্যমে ইনফ্যান্তিনোর ভূমিকা তদন্তের আহ্বান জানিয়ে একটি চিঠি দিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ফুটবলের নিরপেক্ষতা ও ফিফার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় ট্রাম্পের এক মন্তব্যকে ঘিরে। তিনি নিজেই স্বীকার করেন, বালোগানের লাল কার্ডের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে ইনফ্যান্তিনোকে ফোন করেছিলেন। এরপর ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে। ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পান এই ফরোয়ার্ড।
আরো পড়ুন : বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নিয়ে দলগুলো কত আয় করে
ইউরোপীয় আইনপ্রণেতারা তাঁদের চিঠিতে উল্লেখ করেন, খেলাধুলায় রাজনৈতিক প্রভাবের কোনো জায়গা নেই। রাজনৈতিক চাপের কারণে যদি ফিফার সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হয়, তাহলে বিশ্ব ফুটবলের সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং ন্যায়সংগত প্রতিযোগিতা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তবে ফিফা আগের অবস্থানেই রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে শৃঙ্খলা কমিটি নিয়েছে এবং এতে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনোর ব্যক্তিগত কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না।
এই ঘটনাকে ঘিরে ইনফ্যান্তিনোকে নিয়ে চলমান বিতর্ক আরো তীব্র হয়েছে। গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফিফার ‘শান্তি পুরস্কার’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং তাঁর সঙ্গে ইনফ্যান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও সমালোচনা হয়েছিল। সর্বশেষ এই ঘটনায় সেই সম্পর্ক আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
