ফিফার নতুন নিয়মে আর্জেন্টিনাসহ সুবিধা পাচ্ছে যারা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
চলতি বিশ্বকাপে শীর্ষস্থানীয় দলগুলোকে টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায় পর্যন্ত রাখার উদ্দেশ্যে প্রণীত ফিফার নতুন ড্র পদ্ধতি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঘোষিত এই নিয়ম অনুযায়ী, ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দলকে এমনভাবে নকআউটের ছকে রাখা হয়েছে, যাতে সেমিফাইনালের আগে তাদের একে অপরের মুখোমুখি হতে না হয়।
সেই সময় র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিল স্পেন, দ্বিতীয় স্থানে আর্জেন্টিনা, তৃতীয় স্থানে ফ্রান্স এবং চতুর্থ স্থানে ইংল্যান্ড। নতুন নিয়ম অনুসারে, এই চার দলকে ড্রয়ের দুই ভিন্ন অংশে ভাগ করা হয়। ফলে স্পেন ও আর্জেন্টিনা যেমন আলাদা পথে এগিয়েছে, তেমনি ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডকেও রাখা হয়েছে বিপরীত অংশে। তবে এই সুবিধা কার্যকর হওয়ার জন্য শর্ত ছিল- প্রতিটি দলকে নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হতে হবে।
শেষ পর্যন্ত সেটিই হয়েছে। চার দলই গ্রুপসেরা হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে এবং কেউই এখন পর্যন্ত আরেকটি শীর্ষ দলের মুখোমুখি হয়নি। কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন খেলবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে, আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্সের সামনে মরক্কো এবং ইংল্যান্ড লড়বে নরওয়ের বিপক্ষে।
ফিফার এই বাছাই পদ্ধতিতে ড্রয়ের সময় নির্দিষ্ট দলগুলোকে এমনভাবে বিন্যাস করা হয়, যাতে তারা ফাইনালের আগে পরস্পরের বিপক্ষে না পড়ে। টেনিসের উইম্বলডন এবং উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন প্রতিযোগিতা কাঠামোতেও একই ধরনের সিডিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
গত গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিত ক্লাব বিশ্বকাপেও একই নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল। সেই আসরে ফাইনালে পিএসজিকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল চেলসি। বিশ্লেষকদের মতে, বড় দলগুলো যেন নকআউটের শুরুর দিকেই বিদায় না নেয়, ফিফার এই নতুন কাঠামো সেই লক্ষ্যেই তৈরি।
কোয়ার্টার ফাইনালে চার শীর্ষ দলই নিজেদের ম্যাচে ফেবারিট হিসেবে মাঠে নামছে। তারা প্রত্যাশা অনুযায়ী জিততে পারলে সেমিফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনা খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে- যা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য হতে পারে দুটি হাইভোল্টেজ লড়াই।
তবে এই নিয়ম নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, ফিফা কি বড় দলগুলোর জন্য বাড়তি সুবিধা নিশ্চিত করছে? এমন বিতর্কের মধ্যেই শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রেফারিং নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে মিশর ফুটবল ফেডারেশন।
মিশরের দাবি, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার পক্ষে গেছে, যা তাদের বিদায়ে প্রভাব ফেলেছে। ১৪ মিনিটের ব্যবধানে তিন গোল হজম করে ৩-২ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় আফ্রিকার দলটি। তাদের অভিযোগ, ম্যাচ পরিচালনায় ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের একাধিক সিদ্ধান্ত বিতর্কিত ছিল।
এ কারণে রেফারির সিদ্ধান্তগুলোর ব্যাখ্যা চাওয়ার পাশাপাশি বাকি বিশ্বকাপে ওই ফরাসি রেফারি প্যানেলকে দায়িত্ব না দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে মিশর। ম্যাচ শেষে দলটির কোচ হোসাম হাসান অভিযোগ করেন, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আর্জেন্টিনা এবং লিওনেল মেসির প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছে।
