যুবককে নির্যাতনের অভিযোগে থানা ঘেরাও, পুলিশ সদস্যসহ আহত ৬
এম.কে. রানা, বরিশাল
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় রিয়াজ ফকির নামে এক যুবককে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগে থানা ঘেরাও করেন তার স্বজনরা। এ সময় পুলিশ ও স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তিন পুলিশ সদস্যসহ ছয়জন আহত হন। আহতদের মধ্যে এক বৃদ্ধার হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে আগৈলঝাড়া থানা প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার ফুল্লশ্রী গ্রামের ফকির বাড়ির বাসিন্দা সিদ্দিক ফকিরের ছেলে রিয়াজ ফকিরকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন—আগৈলঝাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল হালিম, কনস্টেবল ফরহাদ, রিয়াজের দাদি মমতাজ বেগম, বড় বোন শারমিন এবং চাচা কাঞ্চন ফকির। স্বজনদের অভিযোগ, পুলিশের লাঠিচার্জে মমতাজ বেগমের হাত ভেঙে যায়।
আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুশংকর মল্লিক বলেন, বিকেলে ২০ থেকে ২৫ জন নারী-পুরুষ থানার গেটে এসে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পুলিশ বাধা দিলে তারা পুলিশের ওপরও হামলা করে। এতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন।
অন্যদিকে আহত শারমিনের দাবি, রিয়াজকে কেন আটক করা হয়েছে এবং তার ওপর নির্যাতনের অভিযোগের বিচার চাইতে তারা থানায় গিয়েছিলেন। এ সময় থানার বাইরে অবস্থানকালে পুলিশ বিনা উসকানিতে লাঠিচার্জ করে। এতে তার চাচা কাঞ্চন ফকির গুরুতর আহত হয়ে জ্ঞান হারান।
রিয়াজ ফকিরের বাবা সিদ্দিক ফকির জানান, বুধবার বিকেলে মোবাইল ফোন মেরামতের জন্য বোনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন রিয়াজ। হেলিপ্যাড এলাকায় পুলিশ মাদক থাকার অভিযোগে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
তিনি আরও দাবি করেন, রাতে থানায় গিয়ে ছেলের সঙ্গে কথা বললে রিয়াজ জানান, তার কাছ থেকে কোনো মাদক উদ্ধার করা হয়নি। তারপরও তাকে জোরপূর্বক থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
