বাকেরগঞ্জ
বর্ষা এলেই কাদায় ডুবে যায় সড়ক, দুর্ভোগে পাঁচ গ্রামের মানুষ
এম.কে. রানা, বরিশাল
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের কানকি ব্রিজ থেকে চেয়ারম্যান হাট হয়ে পার্শ্ববর্তী বেতাগী উপজেলা পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষার বৃষ্টিতে এসব গর্ত পানিতে ভরে পুরো সড়ক কর্দমাক্ত হয়ে যাওয়ায় পাঁচ গ্রামের হাজারো মানুষের নিত্যদিনের চলাচল চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন কালিগঞ্জ হাট, কাঁঠালতলীর হাট, বিসমিল্লাহর বাজার, কানকিরহাট, গাজীর হাট, নূরনগর বাজার, নান্টু বাজার, এমপির হাট ও চেয়ারম্যান হাট এলাকার বাসিন্দারা যাতায়াত করেন। এছাড়া ছোট রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ-পশ্চিম রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এমএ মালেক ডিগ্রি কলেজ এবং পার্শ্ববর্তী মির্জাগঞ্জ উপজেলার আকতার হোসেন চৌধুরী মেমোরিয়াল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বর্ষা শুরু হওয়ার পর থেকে সড়কটিতে কার্যত কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তে পানি জমে পুরো রাস্তা কাদামাটির সাগরে পরিণত হয়। অনেক স্থানে হাঁটাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত বছর সড়কের কিছু অংশে মাটি ফেলে সংস্কারের চেষ্টা করা হলেও তা স্থায়ী হয়নি। বর্তমানে অধিকাংশ অংশই আবার কাঁচা মাটির রাস্তায় পরিণত হয়েছে।
ছোট রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা বারেক হাওলাদার বলেন, "গ্রামবাসী মিলে কয়েকবার মাটি ফেলে রাস্তাটি চলাচল উপযোগী করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু বৃষ্টির কারণে আবার বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ভেঙেও পড়েছে। এখন চলাচল করা খুবই কষ্টকর।"
শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিদিন বিদ্যালয় ও কলেজে যেতে কাদা মাড়িয়ে কিংবা জুতা হাতে নিয়ে হাঁটতে হচ্ছে। এতে সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানোও সম্ভব হচ্ছে না।
কৃষকদের অভিযোগ, ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় গুনতে হচ্ছে। অনেক সময় যানবাহন না পাওয়ায় উৎপাদিত পণ্য পরিবহনেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন রোগীরা। স্থানীয়দের ভাষ্য, জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্সসহ কোনো যানবাহন সহজে গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত সড়কটি পুনর্নির্মাণ বা স্থায়ীভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল হাসান (বাবু) বলেন, সড়কটির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দ্রুত পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জানতে চাইলে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী হাসনাই আহমেদ জানান, সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
