এগিয়ে থেকেও কেন হারল ইংল্যান্ড ?
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে থাকা ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ ফাইনাল থেকে মাত্র কয়েক মিনিট দূরে। কিন্তু শেষটা হলো দুঃস্বপ্নের মতো। এনজো ফার্নান্দেজের সমতাসূচক গোলের পর যোগ করা সময়ে লাউতারো মার্তিনেজের হেডে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা।
হঠাৎ এরকম অবিশ্বাস্য হারের পর স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে ঠিক কী কারণে ইংল্যান্ডের এই হার। ভক্ত থেকে শুরু করে ইংলিশ গণমাধ্যম সবাই খুঁজছে সেই প্রশ্নের উত্তর।
তবে এই হারের জন্য একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তকে দায়ী করা কঠিন। এগিয়ে যাওয়ার পর ইংল্যান্ডের মানসিকতা, টমাস টুখেলের বদলি, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারানো, মেসিকে জায়গা দেওয়া এবং আর্জেন্টিনার শক্তিশালী বেঞ্চ মিলিয়েই বদলে গেছে সেমিফাইনালের ফল।
গর্ডনের গোলে ৫৫ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার আগপর্যন্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু গোলের পরই বদলে যায় তাদের খেলার ধরন। দ্বিতীয় গোলের খোঁজ না করে ব্যবধান ধরে রাখাই হয়ে ওঠে প্রধান লক্ষ্য। গর্ডনের গোল থেকে লাউতারোর জয়সূচক গোল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের বল দখল ছিল মাত্র ১২ শতাংশ। ফলে শেষ আধঘণ্টার বেশি সময় ধরে একের পর এক আক্রমণ করার সুযোগ পেয়েছে আর্জেন্টিনা।
অন্যদিকে চাপ কমানোর পরিবর্তে কোচ টুখেলের বদলিগুলো ইংল্যান্ডকে আরও রক্ষণাত্মক করে তোলে। ৭২ মিনিটে গোলদাতা গর্ডনকে তুলে ডিফেন্ডার এজরি কনসাকে নামান তিনি। পরে ডেকলান রাইস ও রিস জেমসকেও তুলে নিয়ে পাঁচ ডিফেন্ডারের ছকে চলে যায় ইংল্যান্ড। এতে আর্জেন্টিনার রক্ষণকে ব্যস্ত রাখার মতো খেলোয়াড় কমে যায়। ম্যাচের পর বদলির দায় স্বীকার করে টুখেলও জানান, তার দল অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক ও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল।
রাইস মাঠ ছাড়ার পর মাঝমাঠেও নিয়ন্ত্রণ হারায় ইংল্যান্ড। রক্ষণ থেকে বল পরিষ্কার করা হলেও সেটি ধরে রেখে আক্রমণ গড়ে তোলার কেউ ছিলেন না। হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামও সামনের দিকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। কাউন্টার আক্রমণের ভয় না থাকায় প্রায় পুরো দল নিয়ে ইংল্যান্ডের অর্ধে উঠে খেলতে পেরেছে আর্জেন্টিনা।
এরপর ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পার্থক্য গড়ে দেন লিওনেল মেসি। ইংল্যান্ড দীর্ঘ সময় তাকে গোল করতে না দিলেও বল তৈরির জায়গাগুলো বন্ধ করতে পারেনি। মেসির পাস থেকে সমতা ফেরান এনজো। যোগ করা সময়ে তার ক্রস থেকেই হেডে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো। নিজে গোল না করেও দুটি সহায়তায় ইংল্যান্ডের ফাইনাল-স্বপ্ন শেষ করে দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
বদলি খেলোয়াড়দের ভূমিকাতেও এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ড যেখানে ব্যবধান রক্ষার জন্য খেলোয়াড় বদলেছে, লিওনেল স্কালোনি সেখানে আক্রমণের শক্তি বাড়িয়েছেন। বদলি হিসেবে নেমে লাউতারোর জয়সূচক গোল সেই সিদ্ধান্তেরই পুরস্কার।
সবশেষে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে দুই দলের মানসিকতা। ইংল্যান্ড খেলেছে গোল না খাওয়ার জন্য, আর্জেন্টিনা খেলেছে ম্যাচ জেতার জন্য। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে আক্রমণ চালিয়ে যাওয়া বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সামনে তাই টিকতে পারেনি টুখেলের অতিরিক্ত সতর্ক ইংল্যান্ড।
