বিদায়ী ম্যাচে মেসির উৎসব ‘ভেস্তে’ দেওয়ার হুমকি!
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম
ফাইল ছবি
স্পষ্টত, তিনি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা। এমন এক মহাতারকার বিদায়ী মঞ্চে প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামার সুযোগ যেকোনো ফুটবলারের কাছেই বিশেষ কিছু। আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সিতে লিওনেল মেসির সম্ভাব্য ‘শেষ মঞ্চের’ সাক্ষী হতে মুখিয়ে আছে গোটা বিশ্ব। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের অংশ হতে প্রস্তুত বেনিনের ফুটবলাররাও।
তবে আবেগ যতই থাকুক, মেসিকে সম্মান জানাতে গিয়ে ম্যাচে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই— এ কথা পরিষ্কার করে দিয়েছেন বেনিনের গোলকিপার মার্সেল দঁজিনু। বরং মেসির বিদায়ী উৎসবের আমেজ নষ্ট করে দিতে চান তিনি!
আগামী বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় আফ্রিকার দেশ বেনিনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচটিকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে যতটা আগ্রহ মেসিকে নিয়ে, বেনিনের গোলকিপার দঁজিনুর কাছেও লড়াইটা ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। তার দায়িত্ব একটাই—আর্জেন্টিনার আক্রমণ ঠেকানো, মেসিকে গোলবঞ্চিত রাখা।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিমিয়ার ডিভিশনের ক্লাব ক্রুগার ইউনাইটেডে খেলা দঁজিনু বুয়েনস এইরেসে পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কাকে সাক্ষাৎকার দেন। এর আগে বেনিন দলের প্রস্তুতি নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছিল। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ায় প্রস্তুতিতে ঘাটতি রয়েছে—এমন খবরও ছড়িয়েছিল।
আরও পড়ুন: নতুন ইতিহাসের পথে মেসির আর্মব্যান্ড
হোটেলে বিদ্যুৎ ও পানি সংকট এবং অনুশীলন নিয়ে জটিলতার বিষয়ে জানতে চাইলে দঁজিনু বলেন, এসব নিয়ে তারা কোনো সমস্যায় পড়েননি। বরং বুয়েনস এইরেসে দলের পরিবেশ বেশ ভালো বলেই জানান তিনি।
মেসির বিপক্ষে খেলার রোমাঞ্চ নিয়েও কথা বলেন দঁজিনু। তার ভাষায়, এটি আর দশটা ম্যাচের মতো নয়। কারণ, মেসির শেষ ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ জীবনে বারবার আসে না। তবে মেসির বিপক্ষে খেলার উত্তেজনার মধ্যেও বেনিনের হয়ে লড়াইয়ের বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
নিজেদের অবস্থান আরও পরিষ্কার করে দঁজিনু বলেন, তারা আর্জেন্টিনায় বেড়াতে আসেননি। বেনিনের হয়ে লড়াই করতেই এসেছেন। ম্যাচের ফল কী হবে—জয়, ড্র কিংবা হার—তা মাঠের খেলাতেই নির্ধারিত হবে।
মেসির প্রতি নিজের মুগ্ধতাও লুকাননি বেনিনের এই গোলকিপার। তার কাছে মেসি ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি। মেসিকে খেলতে দেখেই বড় হয়েছেন, আর এখন সেই খেলোয়াড়ের বিপক্ষে একই মাঠে নামার সুযোগকে অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন তিনি।
তবে এরপরই আসে সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটি। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনা পেনাল্টি পেল, মেসি তখনও গোল পাননি—আর সেই পেনাল্টি নিতে দাঁড়ালেন মেসি। এমন পরিস্থিতিতে কি মেসির বিদায়ী ম্যাচ বলে গোল করার সুযোগ ছেড়ে দেবেন?
দঁজিনুর উত্তর ছিল সোজাসাপ্টা—একদমই না।
তার যুক্তি, তিনি একজন গোলকিপার এবং তার কাজই হলো গোল ঠেকানো। ম্যাচের শেষ মিনিটে মেসি পেনাল্টি নিলেও তা ঠেকানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। মেসির বিদায়ী ম্যাচ হলেও তাকে উপহার হিসেবে গোল দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। মেসি গোল করতে চাইলে নিজের দক্ষতা দিয়েই তা অর্জন করবেন—এটাই তার প্রত্যাশা।
মেসির জার্সি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাও অবশ্য বেনিনের খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রবল। দঁজিনু জানান, দলের প্রায় সবাই মেসির জার্সি চান। তাই আয়োজকদের কাছে তার মজার পরামর্শ—দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জন্য যেন একটি করে জার্সি রাখা হয়। কারণ, একটি জার্সি নিয়ে দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা হলে সেটি জেতা মোটেও সহজ হবে না!
সবশেষে মেসি সর্বকালের সেরা কি না—এই প্রশ্নেও নিজের অবস্থান জানান দঁজিনু। তার মতে, মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে দেখেই তাদের প্রজন্মের ফুটবলাররা বড় হয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে দুজনই বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে রাজত্ব করেছেন। আর মেসি তার চোখে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়—এই খেলারই একজন রাজা।
