টানা অষ্টম জয়ে বার্সার সমান পয়েন্টে রিয়াল মাদ্রিদ
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ভ্যালেন্সিয়ার মাঠে শুরুতে কিছুটা প্রতিরোধের মুখে পড়লেও রিয়াল মাদ্রিদকে থামানো যায়নি। ফেদেরিকো ভালভার্দে ও আর্দা গুলেরের প্রথমার্ধের দুই গোলেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় হোসে মরিনহোর দল। বিরতির পর কিলিয়ান এমবাপ্পে ব্যবধান আরও বাড়ালে ভ্যালেন্সিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা অষ্টম জয় তুলে নেয় স্প্যানিশ জায়ান্টরা। একই সঙ্গে লা লিগার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সমান পয়েন্টে পৌঁছেছে রিয়াল। তবে কাতালানদের চেয়ে একটি ম্যাচ বেশি খেলেছে মাদ্রিদের ক্লাবটি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে ভ্যালেন্সিয়ার মেস্তায়া স্টেডিয়ামে লা লিগার দ্বাদশ রাউন্ডের ম্যাচে মুখোমুখি হয় দুই দল। শুরু থেকেই বলের দখলে আধিপত্য রাখলেও প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগটি পেয়েছিল স্বাগতিকরা। ১৯ মিনিটে রিয়ালের মাঝমাঠ থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সের বাইরে থেকে শট নেন আরন মায়োল। তবে ঝাঁপিয়ে পড়ে দলকে বিপদমুক্ত করেন থিবো কোর্তোয়া।
এরপর কর্নার থেকে বল জালে পাঠিয়েছিল ভ্যালেন্সিয়া। তবে গিদো রদ্রিগেজ অফসাইডে থাকায় গোলটি বাতিল করেন রেফারি। এই ধাক্কার পরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে রিয়াল।
২৮ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ফাউল করার সুবাদে বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক পায় সফরকারীরা। ফরাসি তারকার শট প্রতিপক্ষের রক্ষণ দেয়ালে বাধা পেয়ে ফিরে এলে বক্সের বাইরে থেকে দারুণ শটে বল জালে জড়িয়ে দেন ফেদেরিকো ভালভার্দে।
প্রথম গোলের আট মিনিট পর আবারও উল্লাসে মাতে রিয়াল। বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে জুড বেলিংহামের বাড়ানো বল ভ্যালেন্সিয়ার পেপেলুর গায়ে লেগে পৌঁছায় আর্দা গুলেরের কাছে। প্রথম স্পর্শেই বল জালে পাঠান তুর্কি এই তরুণ। ফলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় মরিনহোর দল।
চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার শেষ ম্যাচটি খেলতে না পারায় এদিনও মাঠে ছিলেন না ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তার অনুপস্থিতিতে আক্রমণের বাঁ প্রান্তে সুযোগ পান ইয়ান দিয়োমান্দে। তবে রিয়ালের আক্রমণের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন বেলিংহাম ও গুলের। মাঝমাঠ থেকে বারবার সুযোগ তৈরি করেছেন তারা।
প্রথমার্ধেই নিজের দ্বিতীয় গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন গুলের। কিন্তু ৪৩ মিনিটে তার জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন ভ্যালেন্সিয়ার গোলরক্ষক স্তোলে দিমিত্রিয়েভস্কি।
বিরতির পরও আক্রমণের ধার কমেনি রিয়ালের। ৫৪ মিনিটে এককভাবে গোলরক্ষকের মুখোমুখি হয়েও গোল করতে পারেননি গুলের। দুই মিনিট পর একই পরিস্থিতিতে সুযোগ নষ্ট করেন এমবাপ্পেও। এরপর আরও একটি শট নিয়ে গোলরক্ষকের বাধায় আটকে যান ফরাসি তারকা।
৬৫ মিনিটে দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টায় ভ্যালেন্সিয়ার তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে শট নেন বেলিংহাম। সেটিও ঠেকিয়ে দেন দিমিত্রিয়েভস্কি। ফিরতি বলে এমবাপ্পের ওভারহেড কিকও প্রতিহত করেন তিনি।
তবে ৭৫ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি ভ্যালেন্সিয়ার। গুলেরের চমৎকার পাস ধরে গোলরক্ষককে কাটিয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠান এমবাপ্পে। এতে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রিয়াল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা সপ্তম ম্যাচে গোল করার কীর্তিও গড়েন ফরাসি এই ফরোয়ার্ড।
তৃতীয় গোল হজমের চার মিনিট পর আরও বিপদে পড়ে ভ্যালেন্সিয়া। এককভাবে গোলের দিকে এগিয়ে যাওয়া এমবাপ্পেকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন স্বাগতিক অধিনায়ক হোসে গায়া। ফলে শেষ ১১ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় ভ্যালেন্সিয়াকে। শেষদিকে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল রিয়াল। তবে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও আর গোল পায়নি সফরকারীরা। শেষ পর্যন্ত ৩-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মরিনহোর দল।
এই জয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা আট ম্যাচ জিতল রিয়াল মাদ্রিদ। গত ২০ সেপ্টেম্বর আতলেটিকো মাদ্রিদের কাছে হারের পর থেকে আর কোনো ম্যাচে পরাজয়ের মুখ দেখেনি তারা। আন্তর্জাতিক বিরতির আগে এমন ধারাবাহিকতা আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে মাদ্রিদের ক্লাবটির।
ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করেন মরিনহো। রিয়াল কোচ জানান, আতলেতিকোর বিপক্ষে হারের পরও তার দল বিচলিত হয়নি। নিজেদের ভুল বুঝে শান্তভাবে কাজ করেছে বলেই ধারাবাহিকভাবে জয় পাচ্ছে রিয়াল। তার মতে, রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবের জন্য জয়কে স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত করাই গুরুত্বপূর্ণ।
এই জয়ে ১২ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে রিয়াল। সমান ৩০ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা। তবে কাতালানরা এখন পর্যন্ত ১১ ম্যাচ খেলেছে। রোববার আতলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে মাঠে নামবে হান্সি ফ্লিকের দল।
অন্যদিকে ১২ ম্যাচে মাত্র ৯ পয়েন্ট নিয়ে ১৯তম স্থানে রয়েছে ভ্যালেন্সিয়া। ঘরের মাঠে বড় হারের পর অবনমন অঞ্চল থেকে বেরিয়ে আসার লড়াই আরও কঠিন হয়ে উঠেছে দলটির।
