মায়ামির হতাশার দিনে মেসির নতুন ইতিহাস
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
ফাইল ছবি
প্রথমার্ধ শেষেই তিন গোলের ব্যবধান। নিজেদের মাঠে ইন্টার মায়ামির সহজ জয়ের অপেক্ষা তখন। কিন্তু বিরতির পর একের পর এক গোল হজম করে সেই সুবিধা ধরে রাখতে পারল না লিওনেল মেসির দল। শেষ মুহূর্তে শার্লট এফসির সমতাসূচক গোলে ৩-৩ ব্যবধানে শেষ হয়েছে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) নিয়মিত মৌসুমে মায়ামির শেষ ম্যাচ।
তবে দলের জয় হাতছাড়া হলেও ব্যক্তিগত অর্জনে ইতিহাস গড়েছেন মেসি। লিগের প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা দুই মৌসুম গোল্ডেন বুট জয়ের কীর্তি গড়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেলে মায়ামির নু স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল স্বাগতিকরা। তবে প্রথম সুযোগটি পেয়েছিল শার্লট। চতুর্থ মিনিটেই জাল খুঁজে নিয়েছিলেন লিয়েল আবাদা। কিন্তু গোলের আগে সতীর্থ ইদান তকলোমাতির হাতে বল লাগায় ভিএআর পর্যালোচনায় সেটি বাতিল হয়।
এই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই এগিয়ে যায় মায়ামি। ১৪ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে গোল করেন ইয়ান ফ্রে। শার্লটের রক্ষণ বল বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হলে কাছ থেকে জাল খুঁজে নেন এই ডিফেন্ডার।
৩৩ মিনিটে আবারও কর্নার থেকে গোল পায় মায়ামি। মেসির নেওয়া কর্নারে জার্মান বেরতেরামের মাথার ছোঁয়ার পর কাছ থেকে বল জালে পাঠান লুইস সুয়ারেজ। চলতি এমএলএস মৌসুমে এটি ছিল উরুগুইয়ান ফরোয়ার্ডের ১৭তম গোল।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্যবধান আরও বাড়ায় স্বাগতিকরা। ৪২ মিনিটে তেলাসকো সেগোভিয়ার পাস পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে গোল করেন রদ্রিগো দি পল। চলতি মৌসুমে এটি তার ষষ্ঠ গোল। বিরতিতে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়ে মায়ামি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। বিরতির পর বদলি হিসেবে নামা টাইগার স্মলসের পাস থেকে ৫০ মিনিটে শার্লটের হয়ে প্রথম গোল করেন লিয়েল আবাদা।
পাঁচ মিনিট পর আবারও লক্ষ্যভেদ করেন এই ইসরায়েলি ফরোয়ার্ড। এবার পেপ বিউলের সঙ্গে বল আদান-প্রদানের পর দুর্দান্ত শটে ব্যবধান কমিয়ে আনেন ৩-২-এ। মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে দুই গোল হজম করে চাপে পড়ে যায় মায়ামি। এরপর সমতার জন্য আক্রমণের গতি বাড়ায় শার্লট। অন্যদিকে মায়ামিও পাল্টা আক্রমণে সুযোগ তৈরি করতে থাকে। কিন্তু দুই দলের গোলরক্ষক ও রক্ষণভাগের বাধায় দীর্ঘ সময় আর গোল হয়নি।
শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে সমতায় ফেরে শার্লট। বক্সের ভেতর থেকে টাইগার স্মলসের নেওয়া শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে ফিরতি বল জালে পাঠান বদলি হিসেবে নামা রদোলফো আলোকো। তাতে ৩-৩ সমতায় ফেরে সফরকারীরা।
তবে নাটকীয়তা সেখানেই শেষ হয়নি। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আবারও মায়ামিকে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। সুয়ারেজের পাস পেয়ে বক্সের ডান দিক থেকে বাঁ পায়ের শট নেন আর্জেন্টাইন তারকা। কিন্তু বল পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফলে ম্যাচজুড়ে আক্রমণে ভূমিকা রাখলেও শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পাননি তিনি।
বাকি সময়েও দুই দল সুযোগ তৈরি করেছিল। তবে আর গোল না হওয়ায় তিন গোলের লিড নিয়েও এক পয়েন্টে সন্তুষ্ট থাকতে হয় মায়ামিকে। অবশ্য এমন পরিস্থিতি এবারই প্রথম নয়। গত মে মাসেও নিজেদের মাঠে অরল্যান্ডো সিটির বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পর ৪-৩ গোলে হেরেছিল মায়ামি। এবার শার্লটের বিপক্ষে একই ব্যবধানের লিড হারিয়ে ড্র করল তারা।
দলের হতাশার দিনে অবশ্য ব্যক্তিগত অর্জনে উজ্জ্বল মেসি। চলতি এমএলএস মৌসুমে ৩১ ম্যাচে ২৬ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট জিতেছেন তিনি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এফসি ডালাসের পেতার মুসার গোল ২২টি। ২১ গোল নিয়ে তৃতীয় হয়েছেন ন্যাশভিল এসসির স্যাম সারিজ।
গত মৌসুমেও ২৯ গোল করে এমএলএসের গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন মেসি। এবার গোলের সংখ্যা কিছুটা কমলেও ধরে রেখেছেন সর্বোচ্চ গোলদাতার মর্যাদা। লিগের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা দুই মৌসুম এই পুরস্কার জয়ের কীর্তি গড়লেন তিনি। এর আগে এমএলএসে পাঁচজন ফুটবলার একাধিকবার গোল্ডেন বুট জিতলেও কেউ টানা দুই মৌসুমে এই অর্জন করতে পারেননি। সেই তালিকায় এবার ষষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে নাম লিখিয়েছেন আটবারের ব্যালন ডি'অরজয়ী এই তারকা।
শুধু গোল করাতেই নয়, সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোতেও দারুণ সফল মেসি। নিয়মিত মৌসুমে ১৭টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে ২৬ গোল ও ১৭ অ্যাসিস্টে সরাসরি অবদান রেখেছেন ৪৩টি গোলে, যা চলতি মৌসুমে লিগের সর্বোচ্চ। এদিকে ড্র করেও ইস্টার্ন কনফারেন্সের দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে ইন্টার মায়ামি। ৩৪ ম্যাচে ১৬ জয়, ১২ ড্র ও ৬ হারে তাদের সংগ্রহ ৬০ পয়েন্ট। তৃতীয় স্থানে থাকা নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশন অরল্যান্ডো সিটির কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়ায় দ্বিতীয় স্থান হারাতে হয়নি মায়ামিকে।
অন্যদিকে ৩৪ ম্যাচে ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের শীর্ষে থেকে নিয়মিত মৌসুম শেষ করেছে ন্যাশভিল। একই সঙ্গে মায়ামির ২০২৪ সালে গড়া ৭৪ পয়েন্টের রেকর্ডও ভেঙেছে তারা। নিয়মিত মৌসুম শেষে এবার মায়ামির সামনে এমএলএস কাপের প্লে-অফ। প্রথম রাউন্ডে তিন ম্যাচের সিরিজে কলম্বাস ক্রুর মুখোমুখি হবে মেসির দল। আগামী ২০ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে প্রথম রাউন্ডের ম্যাচগুলো।
