ধর্মমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী দেশের জন্য দিনে ১৮ ঘণ্টা পরিশ্রম করেন
রায়হান চৌধুরী, মুরাদনগর (কুমিল্লা)
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:২০ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
দেশের মানুষের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৮ ঘণ্টাই পরিশ্রম করেন বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী ও কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ক্লান্ত থাকার পরও তাঁর কথাবার্তায় ক্লান্তির কোনো ছাপ থাকে না। তিনি সব সময় দেশের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কথা চিন্তা করেন। একই অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করে উভয় ইতিহাসের যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার আহ্বান জানান ধর্মমন্ত্রী।
সোমবার (২ নভেম্বর) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ধর্মমন্ত্রীর নিজস্ব তহবিল থেকে এ অনুদান বিতরণ করা হয়।
কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করেছে, আরেকটি দল জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা করছে। আমরা ব্যবসা করতে চাই না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন, ‘যার যার সম্মান তাকে দিতে হবে।’ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ভিত্তি করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদেরও যথাযথ সম্মান জানাতে হবে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান।
নিজের চিকিৎসার প্রসঙ্গ তুলে ধর্মমন্ত্রী বলেন, তাঁর চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘ ছুটি দিয়েছিলেন। এ জন্য তিনি ও তাঁর পরিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রীর কর্মব্যস্ততার বর্ণনা দিয়ে কায়কোবাদ বলেন, একদিন অফিস সময়ের পর তাঁর সঙ্গে কথা বলার সময় দেখেছেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ক্লান্ত ছিলেন। কিন্তু তাঁর কথাবার্তায় ক্লান্তির কোনো ছাপ ছিল না। তিনি সব সময় বাংলাদেশের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কথা ভাবেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ চিন্তার প্রতিফলন হিসেবে কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড চালুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের ভাতার ব্যবস্থাও করেছেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য সবার কাছে দোয়া চান কায়কোবাদ। আল্লাহ যেন তাঁকে সব ধরনের ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করেন, সেই প্রার্থনাও করেন তিনি।
মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব হাসান খান। সহকারী শিক্ষক শারমিন ফাতেমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুরাদনগর, বাঙ্গরা বাজার ও তিতাস সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এ কে এম কামরুজ্জামান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল আলম তালুকদার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ পাভেল খান পাপ্পু, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র দে, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন ও সদস্যসচিব মোল্লা মুজিবুল হক।
অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
