পোশাক শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:২০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে গঠিত মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে দাবি আদায়ের প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সড়ক-মহাসড়কে অস্থিরতা সৃষ্টি না করতেও শ্রমিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন মন্ত্রী।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। গতকাল (রোববার) সকালে বোর্ড গঠন করা হয়েছে। আজই বোর্ডের প্রথম বৈঠক হতে পারতো, না হলেও খুব শিগগির বৈঠক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবি ছিল দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠন করে তাদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা। এজন্য শ্রমমন্ত্রী মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের প্রতিনিধির নাম চেয়েছিলেন। মালিকপক্ষ নাম দিলেও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি চূড়ান্ত করতে কিছুটা সময় লেগেছে। পরশু (শনিবার) রাতে তাদের প্রতিনিধির নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর গতকালই মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এতে কোনো সময়ক্ষেপণ করা হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একই সঙ্গে মালিকপক্ষের বক্তব্য ও শিল্পের স্বার্থ বিবেচনায় রাখতে হবে, যেন উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত না হয়। তবে শ্রমিকদের স্বার্থ যেন বেশি সংরক্ষিত হয়, সে চেষ্টা সরকার করবে।
আরও পড়ুন: ফাজিল-কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিল্পবান্ধব ও শ্রমিকবান্ধব নীতি গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন।
শ্রমিকদের আন্দোলনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া থাকতে পারে এবং তারা আন্দোলনও করতে পারেন। তবে প্রাথমিকভাবে স্মারকলিপি দেওয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে দাবি জানাতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। মজুরি বোর্ডসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শ্রমিকদের দাবি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সবসময় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেন আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরানো হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে সড়কে সহিংস আন্দোলন করা ব্যক্তিদের সঙ্গে শ্রমিক ও শ্রমিকনেতাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। গত কয়েক দিনের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কিছু মুখোশধারী ব্যক্তির উপস্থিতি দেখা গেছে। তাদের কর্মকাণ্ডে শ্রমিকদের ক্ষতি ও স্বার্থহানির আশঙ্কা রয়েছে।
আন্দোলনের ঘটনায় গ্রেপ্তার শ্রমিকদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া শ্রমিকনেতা ও শ্রমিকদের আইনিভাবে মুক্তির বিষয়টি সরকার দেখবে। এছাড়া আন্দোলন ও সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের বিষয়েও যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের আহ্বান থাকবে, আমরা এখন থেকে শিল্পে ফিরে যাবো, উৎপাদনে ফিরে যাবো, ঘরে ফিরে যাবো, কর্মস্থলে ফিরে যাবো। মজুরি বোর্ড গঠনের পরও যারা ইচ্ছাকৃতভাবে সড়ক-মহাসড়কে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে, তারা অবশ্যই শ্রমিকের বন্ধু হতে পারে না।
তিনি শ্রমিকনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। মজুরি বোর্ডে শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। সেখানে শ্রমিকদের দাবি তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিল্প পরিচালিত হয়। মালিকের পুঁজি ও শ্রমিকের শ্রমের সমন্বয়েই শিল্প গড়ে ওঠে, অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয় এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ে। তাই শিল্প চালু রাখা, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং দেশের রপ্তানি অব্যাহত রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশে বেকারত্বের হার যেন আরও না বাড়ে, সেজন্য মিল-কারখানা চালু রাখা জরুরি। শিল্পের উৎপাদনশীলতা ও অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে শ্রমিক, মালিক ও সরকারকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকে শ্রমমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শ্রমিকনেতা ও সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা এবং পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
