চোখের ছানি প্রতিরোধে যেসব অভ্যাস জরুরি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০২:২১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ হলো চোখের ছানি। প্রতি বছর লাখো মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত হন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দৈনন্দিন কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস অনুসরণ করলে ছানির ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাই দৃষ্টিশক্তি দীর্ঘদিন ভালো রাখতে এখন থেকেই সচেতন হওয়া জরুরি।
ছানি কেন হয়?
চোখের স্বচ্ছ লেন্স ধীরে ধীরে ঘোলা হয়ে গেলে তাকে ছানি বলা হয়। এর ফলে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়, আলোতে অস্বস্তি বাড়ে এবং চিকিৎসা না করলে দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে ছানির ঝুঁকি বাড়লেও জীবনযাপনের নানা অভ্যাসও এর বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১. অতিবেগুনি রশ্মি থেকে চোখ রক্ষা করুন
সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি (ইউভি) রশ্মি দীর্ঘদিন চোখে লাগলে ছানির ঝুঁকি বাড়ে। তাই বাইরে বের হওয়ার সময় ১০০ শতাংশ ইউভিএ ও ইউভিবি সুরক্ষাযুক্ত সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি চওড়া কিনারার টুপি ব্যবহার করলেও চোখ অতিরিক্ত সূর্যালোক থেকে সুরক্ষা পায়।
আরো পড়ুন : যেসব কারণে কম বয়সে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি
২. পুষ্টিকর খাবারকে গুরুত্ব দিন
চোখের সুস্থতায় খাবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পালং শাক, কেলসহ সবুজ শাকসবজি, কমলা, আম ও অন্যান্য রঙিন ফলমূল অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। এসব খাবার চোখের লেন্সকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এছাড়া স্যামনের মতো মাছের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও চোখের জন্য উপকারী।
৩. ধূমপান থেকে দূরে থাকুন
ধূমপান চোখের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। গবেষণায় দেখা গেছে, অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীদের ছানিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেশি। কারণ ধূমপান চোখের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কমিয়ে দেয় এবং লেন্সের ক্ষয় দ্রুত ঘটায়। তাই সুস্থ চোখের জন্য ধূমপান ত্যাগ করা জরুরি।
৪. ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগ ছানির ঝুঁকি বাড়ায়। রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে চোখের লেন্স দ্রুত ঘোলা হতে পারে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন।
৫. নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করান
চোখের যেকোনো সমস্যা প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করতে নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে ছানির পাশাপাশি গ্লুকোমা ও ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের মতো রোগও দ্রুত ধরা পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের অন্তত দুই বছর পরপর এবং ৬০ বছরের পর প্রতি বছর একবার চোখ পরীক্ষা করানো উচিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছানি একদিনে তৈরি হয় না। দীর্ঘদিনের কিছু অসচেতন অভ্যাস ধীরে ধীরে এই সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষাই হতে পারে সুস্থ দৃষ্টিশক্তি ধরে রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
