টেস্টটিউব বেবি নিতে গিয়ে গর্ভে অন্য দম্পতির ভ্রূণ, বিপাকে দম্পতি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের দিল্লির একটি আইভিএফ (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) ক্লিনিকে চিকিৎসকদের চরম গাফিলতি ও জালিয়াতির কারণে অন্য দম্পতির ভ্রূণ এক নারীর গর্ভে প্রতিস্থাপনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে যমজ সন্তান জন্ম দেওয়ার পর ডিএনএ পরীক্ষায় ওই দম্পতি জানতে পারেন শিশু দুটি তাদের জৈবিক সন্তান নয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দিল্লির একটি স্থানীয় আদালত পুলিশকে মামলা রুজু করে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী দম্পতি রাহুল রাঠোর ও মিনু রাঠোর ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের গুরুগ্রামের বাসিন্দা। সন্তান নেওয়ার উদ্দেশে তারা গত বছর আইভিএফ চিকিৎসা শুরু করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, দিল্লির দ্বারকার একটি হাসপাতাল তাদের গ্রেটার কৈলাশ এলাকার একটি বন্ধ্যত্ব নিরাময় ক্লিনিকে পাঠায়, যেখানে চিকিৎসক ডা. শিবানী সাচদেব তাদের চিকিৎসা পরিচালনা করেন।
২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে তাদের জানানো হয়, রাহুল ও মিনুর নিজস্ব শুক্রাণু ও ডিম্বাণু ব্যবহার করেই ভ্রূণ তৈরি করা হবে। পরে ১৪ মে সেই ভ্রূণ মিনুর গর্ভে প্রতিস্থাপন করা হয়। চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি তিনি যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু জন্মের পর শিশুদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও চেহারায় মিল না থাকায় দম্পতির সন্দেহ তৈরি হয়। পরে তারা ডিএনএ পরীক্ষা করান। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, যমজ শিশুদের সঙ্গে রাহুল বা মিনু কারও জেনেটিক মিল নেই।
অর্থাৎ চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় ভুল বা জালিয়াতির মাধ্যমে অন্য কোনো দম্পতির ভ্রূণ মিনুর গর্ভে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি প্রকাশের পর এটি বড় ধরনের চিকিৎসা অবহেলা ও সম্ভাব্য অপরাধমূলক জালিয়াতি হিসেবে আলোচনায় আসে। ভুক্তভোগী দম্পতি জানিয়েছেন, এই ঘটনা তাদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তকে গভীর মানসিক যন্ত্রণায় পরিণত করেছে।
আরো পড়ুন : ভারতে সামরিক পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত
এক আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে মিনু রাঠোর বলেন, তিনি যেমন নিজের সন্তানের জন্য খুঁজে ফিরছেন, তেমনি যাদের আসল সন্তান তাদের মা-বাবাও নিশ্চয়ই কষ্টে আছেন। তিনি জানান, সন্তানরা নিজের না জানার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন, তবে মানবিক কারণে শিশুদের অবহেলা করছেন না এবং যত্ন নিয়েই লালন-পালন করছেন।
দম্পতির আইনজীবী আদালতে জানান, এটি একটি গুরুতর চিকিৎসা অপরাধ এবং ইচ্ছাকৃত জালিয়াতির অংশ হতে পারে। তারা হাসপাতালের আইভিএফ রেকর্ড, ল্যাব তথ্য, ভ্রূণ সংক্রান্ত নথি এবং সিসিটিভি ফুটেজ দ্রুত জব্দ করার আবেদন জানিয়েছেন, যাতে কোনো প্রমাণ নষ্ট না হয়।
ভুক্তভোগী পরিবার আরো দাবি করেছে, ঘটনার পর আরো অনেক দম্পতি একই ধরনের অভিজ্ঞতা নিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তারা বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য, আইভিএফ বা ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন হলো একটি আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি, যেখানে ল্যাবরেটরিতে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু মিলিয়ে ভ্রূণ তৈরি করা হয় এবং পরে তা জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি নমুনা আলাদাভাবে সংরক্ষণ ও চিহ্নিত করার কঠোর নিয়ম থাকলেও এ ঘটনায় সেই নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে।
