পালিয়ে প্রেমিককে বিয়ে করায় মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৪:২০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পরিবারের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিবেশী ললিত বর্মার হাত ধরে ঘর ছেড়েছিলেন ১৯ বছরের তরুণী শিবানী। পরে তারা মন্দিরে গিয়ে বিয়ে করেন এবং আইনগতভাবে সেই বিয়ে রেজিস্ট্রিও সম্পন্ন করেন। ভেবেছিলেন হয়তো আর কোনো বাধা থাকবে না, নিজেদের মতো করে সংসার সাজাবেন।
কিন্তু তার এই পালিয়ে বিয়ে করাটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি পরিবার। শেষ পর্যন্ত ললিতের সঙ্গে ঘর করার সিদ্ধান্তে অটল থাকায় নিজের বাবার ধারালো ছুরির আঘাতে প্রাণ হারাতে হলো মেয়েটিকে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের বান্দা জেলার স্থানীয় থানার ভেতরে পুলিশের সামনে। রোববার (১৪ জুন) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ মে শিবানী ও ললিত ঘর ছাড়ার পর তরুণীর পরিবার মেনে না নিয়ে ললিতের বিরুদ্ধে থানায় একটি অপহরণের মামলা দায়ের করে। মামলার পর থেকে পুলিশ এই নবদম্পতির খোঁজ শুরু করে। অবশেষে শুক্রবার (১২ জুন) মধ্যপ্রদেশের সাতনা জেলা থেকে তাদের হদিস মেলে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তাদের উত্তরপ্রদেশের বান্দা থানায় নিয়ে আসে।
থানায় নিয়ে আসার পর শিবানী ও ললিত পুলিশকে জানান, তারা নিজেদের ইচ্ছায় প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিয়ে করেছেন। এর সপক্ষে সব বৈধ কাগজপত্রও জমা দেন। পুলিশ যখন শিবানীর জবানবন্দি রেকর্ড ও পরবর্তী ডাক্তারি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখন দুই পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে হাজির হন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে থানার ভেতরে একটি কাউন্সেলিং সেশনের আয়োজন করা হয়। সেখানে শিবানীর বাবা-মা তাকে ললিতকে ছেড়ে বাপের বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য প্রচণ্ড চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু শিবানী তার স্বামীর সঙ্গে সংসার করার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।
এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তখন সবাইকে হতবাক করে দিয়ে শিবানীর মা রান্নো পেছন থেকে নিজের মেয়েকে শক্ত করে জাপটে ধরেন। আর সেই সুযোগে শিবানীর বাবা লাভলু পকেট থেকে ধারালো ছুরি বের করে নিজের মেয়ের উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকেন। পুলিশের চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এই আকস্মিক হামলায় শিবানীর পেট, হাত এবং হাতের তালু মারাত্মকভাবে জখম হয়। পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় শিবানীকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠালেও শেষ রক্ষা হয়নি, চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
বান্দা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) পলাশ বনসল এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, থানার ভেতরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে ঘাতক বাবা লাভলুকে গ্রেপ্তার করে। একইসঙ্গে এ ঘটনায় মা রান্নোর ভূমিকাও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
