দেশীয় প্রযুক্তির ৩ যুদ্ধজাহাজ উদ্বোধন করলেন মোদি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দরে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত ভারতের তিনটি যুদ্ধজাহাজ আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রোববার অনুষ্ঠিত এ আয়োজনকে ভারতের সামুদ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছে দেশটি। নতুন তিন নৌযান যুদ্ধ পরিচালনা, সমুদ্র জরিপ এবং সাবমেরিনবিরোধী অভিযানে নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কমিশন হওয়া তিনটি নৌযান হলো— আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস সংশোধনক এবং আইএনএস আগ্রয়। ভারতীয় নৌবাহিনী জানিয়েছে, তিনটি জাহাজই আধুনিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানের আগে প্রকাশিত এক ভিডিওতে নৌবাহিনী দুনাগিরিকে আধুনিক ও শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ হিসেবে তুলে ধরে। এতে বলা হয়, জাহাজটি নির্ভুলতা, গতি ও শক্তির সমন্বয়ে নির্মিত এবং অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সেন্সর ব্যবস্থায় সজ্জিত। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করে টানা অভিযান পরিচালনার সক্ষমতাও রয়েছে এর। পাশাপাশি এতে যুক্ত করা হয়েছে দেশীয় স্টেলথ প্রযুক্তি।
দুনাগিরিতে উন্নত অস্ত্রব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে ব্রহ্মোস মিসাইল এবং এমআর-এসএএম। ভারতীয় নৌবাহিনীর মতে, এসব প্রযুক্তি তাদের সামুদ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতাকে আরো শক্তিশালী করবে।
অন্যদিকে, সংশোধক বৃহৎ সার্ভে ভেসেল সিরিজের চতুর্থ ইউনিট। এটি উপকূলীয় ও গভীর সমুদ্রে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ পরিচালনার পাশাপাশি সমুদ্রবিজ্ঞান ও ভূ-পদার্থবিষয়ক তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত হবে। জাহাজটিতে অটোনোমাস আন্ডারওয়াটার ভেহিকল (এইউভি) এবং রিমোটলি অপারেটেড ভেহিকল (আরওভি)-এর মতো আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে।
আগ্রয় হলো অর্ণালা শ্রেণির অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটার ক্রাফটের চতুর্থ ইউনিট। এতে হালকা টর্পেডো, দেশীয় রকেট লঞ্চার এবং অগভীর পানিতে পানির নিচের হুমকি শনাক্ত ও মোকাবিলার জন্য বিশেষ সোনার ব্যবস্থা রয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় সাবমেরিনবিরোধী অভিযানে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রতিরক্ষা খাতে আত্মনির্ভরতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ভারত শুধু প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানিকারক দেশ হয়ে থাকতে চায় না। বরং দেশীয় প্রযুক্তি ও সক্ষমতার মাধ্যমে নিজস্ব শক্তি গড়ে তুলতে চায়।
মোদি বলেন, এই তিনটি যুদ্ধজাহাজ ভারতের আত্মনির্ভরতার প্রতীক। এগুলো ভারতের প্রকৌশলী, শিল্পখাত এবং শ্রমিকদের দক্ষতার ফল। তার ভাষায়, নতুন ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো নিজস্ব সক্ষমতা।
সামুদ্রিক শক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, যে দেশের নৌ-সামর্থ্য যত শক্তিশালী, তার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাবও তত বেশি। ভারত সেই লক্ষ্যেই নিজেদের প্রস্তুত করছে।
তিনি আরো বলেন, কয়েক বছর আগে বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রান্ত কমিশনের মাধ্যমে ভারত সামুদ্রিক শক্তির নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। আজ আইএনএস আগ্রয়, আইএনএস দুনাগিরি এবং আইএনএস সংশোধক সেই যাত্রায় নতুন গতি যোগ করেছে।
