‘হাসিনাকে ফেরত না দিলে ভারত সফরে যাবেন না তারেক রহমান’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করবেন না এবং ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার বিষয়েও অনাগ্রহী এমন দাবি করেছে ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউন। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে ঢাকার অবস্থান ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে একথা জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ আগস্ট ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। দিল্লি যাওয়ার আগের দিন হাইকমিশনারের সঙ্গে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকেই ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক পুনর্গঠনের নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল। তবে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্যের পর দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে দ্য ট্রিবিউন।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, গত ৫ আগস্ট দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সংবাদ সম্মেলনের পর ঢাকার অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। ওই সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা জানান এবং নিজের নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: ভারতকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে যা বললেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
ঢাকার পক্ষ থেকে এসব বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণকে দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করছে বাংলাদেশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়লাভের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তবে দ্বিপক্ষীয় সফরের এই আমন্ত্রণকে ব্রিকস সম্মেলনের আমন্ত্রণ থেকে আলাদা হিসেবে দেখছে দিল্লি।
বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্বে থাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি সমাধান না হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর এবং ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।
গত ১০ আগস্ট ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রায় ৪৫ মিনিটের ওই বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি আলোচনায় আসে বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে দ্য ট্রিবিউন।
আরও পড়ুন: ১৫ বছর পর একই দিনে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
ভারতের হাইকমিশনার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়ে দিল্লির আগ্রহের কথা জানান। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে এমন কোনো সমস্যা নেই, যা সমাধান করা সম্ভব নয় এমন বক্তব্যও দেন তিনি।
অন্যদিকে, ওই দিনই ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈন ঢাকায় এসে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন। একই দিনে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের এসব বৈঠক কূটনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের হাইকমিশনার দিল্লিতে ফিরে বাংলাদেশের পরিবর্তিত অবস্থান সম্পর্কে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অবহিত করেছেন। ভারত বাংলাদেশকে পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ কারণে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে বাংলাদেশের কঠোর অবস্থান দিল্লির জন্য নতুন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: পুলিশের ৮ সদস্যকে ধরে নিয়ে গেছে নিষিদ্ধ সংগঠন!
তবে দুই দেশই সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে নিজেদের অবস্থান কিছুটা নমনীয় করার চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। কারণ আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ ও ভারত উভয়েরই একে অপরের সহযোগিতা প্রয়োজন।
শেখ হাসিনাকে ঘিরে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক এরই মধ্যে সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। একদিকে ভারত শেখ হাসিনার বিষয়ে নিজস্ব অবস্থান ধরে রাখতে চাইছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ তার প্রত্যর্পণকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
ফলে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুটি দুই দেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বিষয়টি কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
